অগ্রণী ব্যাংক লি: বাজিতপুর শাখায় ম্যানেজারের প্রশ্রয়ে ব্যাংক থেকে অবৈধ ও বেআইনিভাবে ভেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ

শামীম আহমেদ:
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার অগ্রণী ব্যাংক লি: বাজিতপুর শাখায় অবৈধ ও বেআইনি আর্থিক লেন-দেন এর অভিযোগ। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত আইন -কানুনের তোয়াক্কা না করে অত্র শাখার ব্যাংক ম্যানেজার আলী আহসান অবৈধভাবে আর্থিক লেন-দেনের প্রশ্রয় দিয়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের বিভিন্ন কার্যক্রমে ত্রাণ কর্তার ভূমিকায় পালন করে আসছেন। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত আইন আনুযায়ী ব্যাংক গ্রাহকের অর্থের আমানতদার, বিশ্বাস ও আস্তার জায়গা।উপযুক্ত প্রাপক কে নির্দিষ্ট অর্থ প্রদানে ব্যাংক আদিষ্ট্যের জায়গা থেকে ভূমিকা পালন করে।ব্যাংক কোন নির্দিষ্ট অর্থ প্রদানে তখনই আদিষ্ট্য হয়,যখন কোন চেক,বিনিময় বিল বা হস্তান্তরযোগ্য দলিলে যথাযত ব্যক্তি/ব্যক্তিবর্গের সঠিক স্বাক্ষরের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণের অর্থ প্রদানে আদেশ প্রদান করা হয়।অন্যথায় একজন আদেষ্টার স্বাক্ষরে স্হলে অন্যজনের অবৈধ আদেষ্টারুপে স্বাক্ষের মাধ্যমে ব্যাংকে কোন প্রকার লেন-দেনের সুযোগ নেই।কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলাস্হ বাহেরবালী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে গত ফেব্রুয়ারি-২০২০ থকে জুন-২০২০ মাসের শিক্ষক-কর্মচারীর ভেতন-ভাতা উত্তোলনে ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের চিত্র খুজে পাওয়া গেছে। মিথ্যা ও অসত্য অভিযেগে ষড়যন্ত্রেমূলক ভাবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম এ কাসেম কে গত সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং থেকে বেআইনিভাবে বরখাস্ত করে বিদ্যালয়ের সহকারীর শিক্ষক প্রভা রাণী দাসকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, হত্যা, অস্ত্র ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলার আসামি মো:আ:বাছির মিয়া। গত ২০ শে ফেব্রুয়ারি ২০২০ ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এক পত্রাদেশে প্রধান শিক্ষক এম এ কাসেম কে বরখাস্তকরণ বিধি সম্মত হয়নি বলে তাকে স্বপদে বহাল করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন ও স্বাক্ষর প্রদান অবৈধ ঘোষণা করায় উক্ত তারিখ থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীর ভেতন-ভাতা উত্তোলনে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটর সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক এম এ কাসেম এর যৌথ স্বাক্ষর প্রযোজ্য হয়। প্রধান শিক্ষক এম এ কাসেম শিক্ষা বোর্ড এর উক্ত চিঠিটি
ম্যানেজা,অগ্রণী ব্যাংক লি: বাজিতপুর শাখা কে প্রাপ্তি স্বীকার গ্রহণ সহ অবগত করান এবং এ মর্মে ম্যানেজার কে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেন যে, প্রভা রাণীর অবৈধ স্বাক্ষরে ভেতন-ভাতা প্রদান করা হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্হা গ্রহণ করা হবে কিন্তু তিনি কোন কিছু তোয়াক্কা না করে ফেব্রুয়ারি, মার্চ-২০২০ মাসের ভেতন-ভাতা প্রভা রাণী দাসের অবৈধ স্বাক্ষরে প্রধান শিক্ষক এম এ কাসেম কে বঞ্চিত করে নির্দ্বিধায় অন্যদেরকে প্রদান করেন।গত ১৫ই মার্চ ২০২০ ঢাকা শিক্ষা বোর্ড বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে এডহক কমিটি গঠনের অনুমতি প্রদান করে প্রধান শিক্ষক এম এ কাসেম কে প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্র দ্রুত বোর্ডে প্রেরণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।প্রদান শিক্ষক এম এ কাসেম বোর্ড কর্তৃক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ভেঙ্গে দেওয়ার বিষয়টিও ব্যাংক ম্যানেজারকে অবগত করিয়ে মো:আ:বাছির মিয়া ও প্রভা রাণী দাস এর অবৈধ স্বাক্ষরে ভেতন-ভাতা প্রদান না করার জন্য অনুরোধ করেন কিন্তু কমিটি ভেঙ্গে যাওয়ার পরেও ম্যানেজার তাদের অবৈধ স্বাক্ষরে প্রদান শিক্ষক এম এ কাসেম কে বঞ্চিত করে জুন-২০২০ মাসের ভেতন-ভাতা ১৩/০৮/২০২০ ইং তারিখে প্রদান করেছেন।মহামারি কোভিড-১৯ এর কারণে এডহক কমিটি অনুমোদনে বিলম্ব হয়ে গত ১৯/০৭/২০২০ ইং তারিখে বোর্ড কর্তৃক বিদ্যালয়ের পূর্নাঙ্গ এডহক কমিটি অনুমোদন হয়।বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি বিদ্যামান থাকা সত্বেও ম্যানেজার,অগ্রণী ব্যাংক লি:বাজিতপুর শাখা সাবেক সভাপতি মো:আ:বাছির মিয়া ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রভা রাণী দাস এর অবৈধ স্বাক্ষরে প্রদান করেছেন,যা প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোন ভাবেই কাম্য নয়।এক জনের ব্যাংক হিসাবের চেকে যেমন অন্য জনের স্বাক্ষরের মাধ্যমে অর্থ প্রদানের কোন প্রকারের সুযোগ নেই, তেমনি ভাবে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি বহাল থাকা অবস্হায় তাদের স্বাক্ষর ছাড়া অন্য যে কারো স্বাক্ষরে ব্যাংকের পক্ষ থেকে ভেতন-ভাতা প্রদান করা সম্মপূর্ণভাবে বেআইনি ও অবৈধ লেন-দেনের শামিল।বারংবার লিখিত ভাবে ম্যানেজার কে অবগত করানো সত্বেও অবৈধভাবে ভেতন-ভাতা প্রদান করে ব্যাংকের প্রতি গণ মানুষের আস্হার জায়গায় ছিড় ধরিয়েছেন।এ ব্যাপারে ম্যানেজার কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার,বাজিতপুর এর পরামর্শে তিনি এরুপ কর্মকাণ্ড করেছেন।অন্যদিকে অনুসন্ধানে জানা যায় এ অনিয়মের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, কিশোরগঞ্জ থেকে জেলা শিক্ষা অফিসার,কিশোরগঞ্জ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বাজিতপুর এর নেতৃত্বে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করপ সাত(০৭)দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসক, কিশোরগঞ্জ বরারবে রিপোর্ট প্রদান করতে বলা হয়েছে।অন্যদিকে বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(শিক্ষা ও আইসিটি) এবং প্রধান শিক্ষক এম এ কাসেম এর যৌথ স্বাক্ষরে জুলাই-২০২০ ইং মাসের শিক্ষক ও কর্মচারীর ভেতন-ভাতা অনুমোতি হয়ে ব্যাংক থেকে প্রদান করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »