আমার মৃত্যুর জন্য সৈকত দায়ী ? ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে কলেজ ছাত্রী প্রেমিকার আত্মহত্যা

মাসুম খান:
নরসিংদী জেলার রায়পুরা পৌর শহরে প্রেমিককে দায়ী করে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ২০ বছর বয়সের তরুণী নুসরাত ইমরোজ লিজা নামে এক নার্সিং কলেজের ছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন। সোমবার বিকেলে রায়পুরা পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড মেরাতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নুসরাত ইমরোজ লিজা নরসিংদী জেলার রায়পুরা পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড মেরাতলী গ্রামের মো. আসাদুজ্জামানের বড় মেয়ে। চার ভাই-বোনের মধ্যে লিজা ছিলেন সবার বড়। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের নার্সিং বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।
আত্মহত্যার আগে লিজা তার ফেইসবুকে সৈকত নামে একজনকে তার মৃত্যুর জন্য দায়ী উল্লেখ করে দুটি স্ট্যাটাস দেন। সৈকত ঢাকার মিরপুরের জাপান-বাংলাদেশ নার্সিং ইনস্টিটিউটের ৩য় বর্ষের ছাত্র।
একটি পোস্টে লিজা লিখেছেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য সৈকত দায়ী। আই এম সরি আব্বা-আম্মা।’
আরেকটি পোস্টে তিনি লিখেন, ‘আমার লাইফটা নিয়ে খেলছে সৈকত। ওরে আমি মাফ করব না।’
নিহত লিজার বাবা আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সোমবার আমার বড় ভাইয়ের বাড়িতে পারিবারিক দাওয়াতে সবাই যাই। লিজা সবাইকে রেখে আগেই বাড়ি চলে আসে। আধা ঘণ্টা পর বাড়িতে এসে ঘরের দরজা-জানালা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পাই। অনেক ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়াশব্দ না পেলে বাইর থেকে অনেক চেষ্টায় দরজা খুলে মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই।’
তিনি বলেন, ‘ফেইসবুক স্ট্যাটাসে লিজা তার মৃত্যুর জন্য সৈকত নামে যে ছেলেটিকে দায়ী করেছে, এ ব্যাপারে আমরা আগে কিছু জানতাম না।’
তবে লিজার মৃত্যুর পর তার ছোট বোন কান্নার সময় বারবার বলছে, তার বোন সৈকতের জন্য মারা গেছে।
লিজার ছোট ভাই আলামিন বলেন, লিজা মিরপুরে থাকাকালীন জাপান-বাংলাদেশ নার্সিং ইনস্টিটিউটের ছাত্র সৈকতের সঙ্গে তার বোনের পরিচয় হয়। লিজা কুমিল্লা ভর্তি হলেও সৈকতের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। সোমবার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে সে আত্মহত্যা করে।
রায়পুরা থানার পরিদর্শক ওয়াহাব মিয়া বলেন, প্রাথমিকভাবে মরদেহের সুরতহাল শেষে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট আসলে বিস্তারিত বলা যাবে।
এ ব্যাপারে থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছে। তবে নিহত লিজার পরিবার এখনো থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »