আমার সাংবাদিকতা ও… * অরুণিমা ম্যাগাজিন পত্রিকা *

১৯৯৮ সালের ঘঠনা, সকাল দশটা হবে তখন, হকার এসে আমার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে পত্রিকা দিচ্ছিলো এমন সময় আমার দৃষ্টি চলে গেলো হকাররের বুগলের ভিতর। ওখানে দেখি ম্যাগাজিন বইয়ের মত একটা কিছু। ওটা কি প্রশ্ন করতেই হকার তার ফুকলাা দাঁতের বেটকি হাসি দিয়ে বললো, এইডা মেগজিন বই। তার কাজ থেকে একটি ম্যাগাজিন অরুণিমা পত্রিকা কিনে নিয়ে ঘাটতে থাকলাম। মাসিক অরুণিমা।। ম্যাগাজিনটিতে শেখঃ আঃ জলিলের একটা ছোট গল্প ছিলো। প্রেমের গল্প। তার সাহিত্যের ভাষা অকল্পনীয়।গল্পটা ১০০ বার পড়েছিলাম। ইচ্ছে হলো আমিও গল্প লিখবো। তখন অরুণিমা প্রধান কায্যলয় ছিলো নরসিংদীর মরজাল বাসট্যান্ড। কার সাথে মরজাল অরুণিমা অফিসে গিয়েছিলাম ঠিক মনে নেই। আমার লেখা একটা ছোট গল্প নিয়ে। অফিসে বসা বুদ্ধিদৃপ্ত চেহেরার যুবকটিকে দেখে বুঝার বাকি রইলোনা যে ওনিই সম্পাদক। মোস্তাফিজ আমিন। সালাম দিতেই চোখের ইশারায় বসতে বললেন। ওনার ভরাট গলার মিষ্টি কন্ঠ আর মায়াবী চোখের চাওনি অদ্ভুত একটা অনুভূতির ছোঁয়া লাগলো আমার অন্তরে। ওনার মুখের প্রতিটি শব্দ যেন এক একটা বাণী। সত্যিই প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়ে গেলাম। যে হে তো অরুণিমা মাসিক ম্যাগাজিন পত্রিকা ছিলো তাই দিনের পর দিন অপেক্ষার প্রহর গুনতে হতো। কখন আসবে প্রিয় ম্যাগাজিন টা। ঠিকই সময় মত হাতে আসলো। তখন প্রাণ ভরে ঘ্রাণ নিতাম। সেদিন মনে হতো ঈদের চাঁদ উঠলো, কিংবা আজ ঈদ। এমন আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মত না। মাসিক অরুণিমা থেকে শুরু কবিতা, গল্প,আর আমার সাংবাদিকতা। ১৯৯৯ সালে কাজল ভাইয়ের সাপ্তাহিক মফস্বল চিএ আর মেস লাইন মেডিয়া সেন্টার এম এম সির উদ্যোগ ভৈরব প্রেসক্লাবে তিন দিনের এক প্রশিক্ষণের ব্যাবস্থা করা হয়। সেই খানে কেমন করে যানি আমিন ভাই অরুণিমার বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের ও প্রশিক্ষণের ব্যাবস্থা করেন।তার মধ্যে সৌভাগ্য ক্রমে আমিও ছিলাম। সেই খানে পরিচয় হয়,সাংবাদিক আদিল উদ্দিন আহমেদ আদিল,সাংবাদিক আঃরব,সাংবাদিক আসাদুজ্জামান রিপন। বর্তমানে প্রথম আলোর সুমন মোল্লা সহ অনেকেরই সাথে। মাসিক অরুণিমা থেকে সাপ্তাহিক নিরপেক্ষ অরুণিমা পত্রিকা হিসাবে রুপ নেই অরুণিমা। সহকারী সম্পাদক হিসাবে আমিন ভাইয়ের সাথে পথ চলা শুরু। আজ ২২ বছর পরও সেই ম্যাগাজিন মাসিক অরুণিমার গন্ধ অনুভব করি। অনুভব করি প্রিয় মোস্তাফিজ আমিন ভাইয়ের শাসন।

লেখকঃ মোঃদিদার হোসেন পিন্টু কলামিস্ট ও সাংবাদিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »