কটিয়াদীতে পরিচয়বিহীন মানসিক ভারসাম্যহীন গর্ভবতী কিশোরীর পাশে রক্তদান সমিতি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
নাম জানা নেই, পরিচয়ও কেউ জানে না। মানসিক ভারসাম্যহীন এক গর্ভবতী কিশোরী (১৮) কটিয়াদী বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশ এলাকায় বেশ কিছুদিন যাবৎ ঘুরাঘুরি করছে। গায়ের পোশাক দেখেই বুঝা যায় গোসল নেই কত দিন! একজন হতদরিদ্র দিনমজুরের স্ত্রী হলেও গর্ভকালীন সময়ে সাধ্যমত স্বাস্থ্য সেবা জুটতো। কিন্তু কে রাখে কার খবর! বাজারে বাজারে ঘুরে বেড়ানো নাম পরিচয়হীন এ কিশোরীর স্বাস্থ্য সেবা তো দুরের কথা; থাকা, খাওয়া, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার ন্যুনতম বালাই নেই। যেখানে রাত, সেখানেই কাত। এমনি করে কেটে যাচ্ছে তার দিন।

তার শারীরিক পরিবর্তন এবং স্বাস্থ্যের করুন অবস্থা দেখে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন রক্তদান সমিতি’র সদস্যদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়। সংগঠনের সদস্যরা এগিয়ে আসে তার পাশে। অনুসন্ধান করে তার নাম পরিচয়ের। কিন্তু হায়! যে কিশোরী তার নামই বলতে পারে না, কিভাবে বলবে, কে তার অনাগত সন্তানের পিতা! কি তার ঠিকানা। কেমন করে হলো তার এ অবস্থা। এ তো আর কিছু নয়, সমাজের বিকৃত চরিত্রের কোন নরপিশাচের ধর্ষণের শিকার।

বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তাকে ঘুরাফেরা করতে দেখে বদরুল আলম নাঈম ও তার সংগঠনের কয়েকজন সদস্য মিলে গর্ভবতী এ কিশোরীকে নিয়ে যান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার কিছু পরীা নিরীার কথা বলেন। পরে স্থানীয় বেসরকারি কিনিক ভূঞা মেডিকেল সেন্টারে নিলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হলেও তাদের কর্মকান্ডে প্রীত হয়ে বিনে পয়সায় পরীা নিরীাগুলো করে দেন কিনিক কর্তৃপ। তাকে আবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন এবং চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান। পরে অজ্ঞাত মানসিক ভারসাম্যহীন গর্ভবতী কিশোরীর বিষয়টি লিখিত পত্রের মাধ্যমে থানাকে অবহিত করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন কর্তব্যরত ডাক্তার ।

রক্তদান সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক বদরুল আলম নাঈম বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন গর্ভবতী কিশোরীর স্বাস্থ্য সেবা প্রয়োজন। চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি এবং তার জন্য কিছু খাবার ও ওষুধ কিনে দেই। এগুলো পেয়ে সে খুশি হয় এবং তার মানসিক অবস্থার উন্নতি ল্য করি। আমাদের সংগঠনের সদস্যগণ তার প্রসবকালীন পর্যন্ত নিয়মিত খোঁজ খবর রাখার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত ডাক্তার তৌফিকুল ইসলাম বলেন, রিপোর্ট দেখে বুঝা যায় গর্ভকালীন ৩৪ সপ্তাহ অতিক্রান্ত হয়েছে। এ মূহুর্তে তার ওষুধ, খাবার এবং নার্সিং খুব বেশী প্রয়োজন। হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রসবকালীন ও প্রসব পরবর্তী পর্যাপ্ত সেবা তাকে প্রদান করা হবে।

উপজেলা চেয়ারম্যান ডা. মুশতাকুর রহমান বলেন, রক্তদান সমিতির সদস্যরা একটি ভাল কাজ করেছে। মানসিক ভারসাম্যহীন গর্ভবতী কিশোরীকে চিকিৎসা প্রদানের প্রয়োজনীয় পদপে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছে। মেয়েটির পর্যাপ্ত নার্সিং করা হলে এবং অনাগত সন্তানের পিতাকে খোঁজে পাওয়া গেলে হয়তো সে সুস্থ স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »