করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা এ দুশ্চিন্তা মাথায় নিয়ে ঢাকার পথে মানুষ

নিজস্ব সংবাদদাতা: দীর্ঘ দুই মাস সাধারণ ছুটির পর কাল রোববার সীমিত পরিসরে সরকারি অফিস-আদালত চালু হচ্ছে। এ জন্য কর্মস্থলের উদ্দেশে পঙ্গপালের মতো ছুটছেন মানুষ। মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ী ও মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথে আজ শনিবার সকাল থেকে ঢাকামুখী যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড়। তাঁরা গাদাগাদি করে চলছেন ফেরিতে।

করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হলেও দীর্ঘ যাত্রাপথে তা মানা হচ্ছে না। সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই নেই। এ অবস্থায় করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ঢাকামুখী যাত্রীদের একটি বড় অংশ ভাড়া করা মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল নিয়ে ঢাকায় ঢুকছেন। ফলে উভয় ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় আটকা পড়েছে আট শতাধিক যানবাহন।

বিআইডব্লিউটিসি কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাট সূত্র জানায়, ঈদের এক দিন পর থেকে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার কর্মজীবী মানুষ ঢাকামুখী হচ্ছেন। শুরুতে ভিড় না বাড়লেও বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার থেকে ব্যক্তিগত যানবাহনের চাপ ও যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। রোববার থেকে সরকারি অফিস-আদালত চালু হওয়ার কারণে আজ শনিবার যাত্রীদের ভিড় তুলনামূলক বেশি। সকাল থেকে প্রতিটি ফেরিতে এক থেকে দেড় হাজার মানুষ পদ্মা পাড়ি দিয়ে শিমুলিয়া হয়ে ঢাকায় ঢুকছেন। মানুষের ভিড় বাড়ার পাশাপাশি যানবাহনের সংখ্যাও বাড়ছে। ঘাটের সংযোগ সড়কগুলোতে ব্যক্তিগত যানবাহন ও ভাড়ায় চালিত যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ঘাটের উভয় পাড়ে পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে ছোট-বড় আট শতাধিক যানবাহন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পাশাপাশি কাজ করছেন পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা।
আজ দুপুর ১২টায় কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটের সংযোগ সড়কগুলোতে ছোট-বড় অসংখ্য যানবাহনের সারি। ফেরিতে উঠতে যাত্রীরা ঘাটের বিভিন্ন স্থানে জটলা বেঁধে দাঁড়িয়ে আছেন। ফেরিগুলো ঘাটে আসামাত্র যাত্রীরা আগে ওঠার প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েন। ফেরিতে ওঠা যাত্রীদের তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হলেও মানুষের অতিরিক্ত চাপ থাকায় এক ফুটও দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

ঢাকাগামী মাইক্রোবাসচালক আজিবর রহমান খুলনা থেকে ১৬ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার গুলশানে যাচ্ছেন। যাত্রীরা সবাই চাকরিজীবী। তিনি বলেন, ‘বেলা ১১টায় ঘাটে এসে দেখি বিশাল লাইন। এখনো লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কখন ফেরিতে উঠতে পারব, জানি না।’

ঢাকাগামী যাত্রী আজগর আলী বলেন, ‘ছুটি থাকায় মাস দুই তো গ্রামের বাড়িতে ছিলাম, ভালোই ছিলাম। সরকারি চাকরি করি, কাল অফিস খোলা। তাই মন না চাইলেও ভিড় সামলে যেতে হচ্ছে। কিন্তু যাত্রীরা যেভাবে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ঢাকায় যাচ্ছেন, তা দেখে আমি নিজেই দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছি।’
বেলা একটায় কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাটের ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) নাসিরউদ্দিন সরকার বলেন, ‘অন্য দিনের তুলনায় আজ যানবাহন ও যাত্রীদের চাপ বেশি। এই ঘাটে চার শতাধিক যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় আছে। আটকে পড়া যানবাহনের ৯০ ভাগই ব্যক্তিগত। শিমুলিয়া ঘাটেও একই অবস্থা। যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে মাইকিং করে যাচ্ছে। পাশাপাশি শৃঙ্খলা বজায় রেখে পুলিশ সদস্যরা যাত্রী ও যানবাহনগুলো ফেরিতে তুলে দিচ্ছেন।

বিআইডব্লিউটিসি কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক মো. আবদুল আলিম বলেন, আজ সকাল থেকে প্রতিটি ফেরিতে এক থেকে দেড় হাজার মানুষ পদ্মা পাড়ি দিচ্ছেন। বর্তমানে এই নৌপথে ১৩-১৪টি ফেরি চলাচল করছে। পদ্মায় পানি বেড়ে যাওয়ায় ফেরি চলাচলে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »