করোনায় সারাবিশ্ব যখন বিপদগ্রস্ত তখন ভৈরবে ব্যতিক্রমী সংগঠন ‘আহার ঘর’ এর পথচলা।

মো. আলাল উদ্দিন,বিশেষ প্রতিনিধি:

করোনায় সারাবিশ্ব যখন বিপদগ্রস্ত তখন বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। মহামারি করোনার ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির পেলে সরকার দেশে লকডাউন ঘোষণা করে। এতে করে মানুষের বাহিরে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।কাজ কর্ম না থাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যায়। বাহিরে মানুষের চলাচল কমে যাওয়াই ছিন্নমূল মানুষগুলোর অর্ধহারে বা অনাহারে দিন কাটে। আর তাদের কথা চিন্তা করে কিছু অসহায় মানুষের ঘরে বিনে পয়সায় রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়ার ভাবনা থেকে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে কিছু তরুণের হাত ধরে প্রতিষ্ঠা পাই সামাজিক সংগঠন ‘আহার ঘর’। তাদের উদ্দেশ্য প্রতিদিন অসহায় মানুষের কাছে বিনা মূল্যে রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়া। চলতি বছরের ১৪ মে থেকে শুরু হয় ‘আহার ঘর’ এর পথ চলা। দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব যতদিন থাকবে তাদের খাবার বিতরণে কার্যক্রম ততদিন চলমান থাকবে বলে জানা যায়।

‘আহার ঘর’ শুধু অসহায় মানুষের চিন্তা করে
খাবার পৌঁছে দেওয়া ছাড়া এর বাহিরেও ব্যতিক্রম কিছু আয়োজন করেছে। আর ব্যতিক্রম আয়োজনটি তাদের নিয়ে যারা আমাকে আপনাকে সুস্থ রাখতে করোনার এই ক্লান্তিলগ্নে সবসময় ফ্রন্টলাইন থেকে কাজ করছে এই সমস্ত ডাক্তারদের নিয়ে।

তাদের এই আয়োজনটি ছিল ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ভৈরব ট্রমা সেন্টারে করোনার ক্লান্তিলগ্নে যারা সবসময় ফ্রন্টলাইন থেকে কাজ করে যাচ্ছে এমন ৭৫ জন ডাক্তার ও নার্সদের নিয়ে। তাদের সম্মানের ‘আহার ঘর’ এক বেলার আহার দিয়ে ও গোলাপ ফুল দিয়ে তাদের শুভেচ্ছা জানান। এরই সাথে ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা ডাক্তাগণদের উদ্যােশে লেখা করোনা আক্রান্ত থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা করোনা জয়ী যোদ্ধাদের ভালবাসার চিঠি পৌঁছে দিয়েছে ‘আহার ঘর’। তাদের এই ভালোবাসা দেখে আবেগে আপ্লুত হন ডাক্তার ও নার্সগণ।

‘আহার ঘর’ এর এই উদ্যােগ আর করোনা জয়ী যোদ্ধাদের ভালোবাসা দেখে করোনার এই ক্লান্তিলগ্নে ফ্রন্টলাইন থেকে কাজ করা এক ডাক্তার বলেন, রোগের চিকিৎসা ও রোগীর সেবা, চিকিৎসক হিসেবে এটা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। মহামারীর এই সময়ে যখন পরিবার থেকে দিনের পর দিন সরে থাকতে হয়, আপনজনকে ভাল রাখার জন্য কাছে ভিড়তেও ভয় লাগে। মানসিক অবস্থা হয়ে উঠে খুব নাজুক। রোগীর সেবা করতে গিয়ে ধৈর্য্যের পরীক্ষা চলতে থাকে বারবার।

কোভিডে আক্রান্ত রোগীদের শারিরীক অবস্থা খারাপ না হলেও মানসিক ভাবে যে ধাক্কা লাগে, তখন চিকিৎসকরাই পারে আপনজনের ভূমিকাটা নিতে। ভৈরবের চিকিৎসকদের ভূমিকা যতটুকুই থাকুক,সুস্থ হয়ে উঠা করোনা বিজেতারা তার ফিডব্যাক দিয়েছে সহস্রগুন বেশি। তাদের পাঠানো মেসেজ চিঠি আকারে আমাদের পৌছে দিল “আহার ঘর”। আজ আমরা আবেগ, আনন্দে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার ভাষা খুঁজে পাচ্ছিনা। ধন্যবাদ আমাদের করোনা বিজেতাদের এবং ধন্যবাদ জানায় ‘আহার ঘর’ এর সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে।

‘আহার ঘর’ এর সদস্য আরাফাত ভূঁইয়া বলেন, দেশে যখন লকডাউন চলছিল তখন ছিন্নমূল অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষ কষ্ট করতে দেখে তাদের জন্য কিছু করার চিন্তা আসে মাথায়। তখন রোজার মাস চলছিল। আমিসহ আমার কয়েক জন বন্ধু মিলে প্রথমে ৩নং ওয়ার্ডে ১১২ জনের মাঝে আহার পৌঁছিয়ে দেয়। আর এই আহার বিতরণের মধ্য দিয়েই শুরু হয় আমাদের ‘আহার ঘর’ এর পথ চলা। এর পর থেকে পর্যায়ক্রমে ভৈরব পৌরসভার ১২ টি ওয়ার্ডে আহার দেওয়া হয় ২০ থেকে ৩০ রোজার মধ্যে ১৬৪৭ জনের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। ঈদ উপলক্ষে

ঈদের দিন আমরা ভৈরব উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ওনার স্বামী সহযোগীতায় ১ হাজার এবং আমাদের নিজেদের উদ্যােগে ৩ শত জনকে মোট ১ হাজার ৩শত জন মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করি ‘আহার ঘর’ এর মাধ্যমে। রোজা থেকে ঈদের পরবর্তী সময় পর্যন্ত আমরা ‘আহার ঘর’ এর মাধ্যমে ৩ হাজার ৭৭ জনের মাঝে খাবার বিতরণ করেছি।আমাদের এই ‘আহারের ঘর’ এর কার্যক্রম সবসময় অব্যাহত থাকবে।

এছাড়া আমাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা শুধু খাবার দিয়ে নয় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কাজে মানুষের পাশে থাকা। তাই এবার আমরা আরেকটুকু ব্যতিক্রম চিন্তা করলাম। করোনার এই ক্লান্তিলগ্নে ফ্রন্টলাইন থেকে ডাক্তাররা আমাদের যেভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছে তা সত্যিকার্থে প্রশংসনীয়। ওনারা আমাদের নিরাপদ ও সুস্থ রাখার জন্য দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তাদের এই পরিশ্রম শোধ করার মত না। তাদের প্রতি সম্মান জানাতে আমরা আমাদের সাধ্যমতো ‘আহার ঘর’ এর পক্ষ থেকে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যােগ গ্রহণ করি। আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ট্রমা সেন্টারের ৭৫ জন সম্মুখসারীর যোদ্ধাদের একবেলার খাবার ও লাল গোলাগ দিয়ে সম্মান জানায়। এছাড়া তাদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে
করোনা জয়ীদের লেখা চিঠি হাতে তুলে দেয়। এছাড়া তিনি বলেন ‘আহার ঘর’ শুধু খাবার বিতরণ নয় স্বাস্থ্যসেবা মূলক কাজও করবে। সামনে যেন আরো ভালো কিছু করতে পারে তাই সকলের সাহায্য ও সহযোগীতা কামনা করেন সংগঠনের সদস্যরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »