করোনা যুদ্ধে জয়ী হলেন ভৈরবের আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতা আতিক আহমেদ সৌরভ ও ডাঃ মিজানুর রহমান কবির

শামীম আহমেদ ||
দীর্ঘ ১ মাস কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করে করোনা জয় করলেন মানবতার ফেরিওয়ালা ভৈরব পৌর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আতিক আহমেদ সৌরভ ও ভৈরব উপজেলা আওয়ামীলীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক, সেন্টাল হাসপাতাল ভৈরব এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ভৈরব প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মিজানুর রহমান কবির এ ছাড়াও একই দিনে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন আরো ১৩ জন। ৪ জুলাই শনিবার এতথ্য নিশ্চিত করেছেন উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. বুলবুল আহম্মদ।
জানা যায়, ২ জুন তিনি প্রথম করোনা নমুনা পরীক্ষা দিলে ৪ জুন আক্রান্তের খবর জানতে পারেন। পরবর্তিতে ১৫ জুন পরীক্ষা দিলে দ্বিতীয় রিপোর্টেও করোনা পজিটিভ আসে। সর্বশেষ ১ জুলাই নমুনা পরীক্ষা দিলে ৪ জুলাই নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগিটিভ আসে এবং তিনি সুস্থ হন। একজন দক্ষ সংগঠকের করোনা আক্রান্তে ভৈরবের মানুষের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছিল। তিনি ভৈরব বইমেলা পরিষদ সভাপতি, ভৈরব বাজার নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন ছাড়াও তিনি কাকলী কচিকাঁচার মেলা, করবী খেলাঘর আসর, ভৈরব বিজয় মেলা, ভৈরব উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রসঙ্গত, আতিক আহমেদ সৌরভ ও ডাঃ মিজানুর রহমান কবির বর্তমান সময়ে ভৈরবের একজন সক্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। করোনার দুর্যোগময় দিনে তারা ঘরে বসে না থেকে পৌর শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে ও আগ্রহ থেকে জনগণের খবর রেখেছেন। দুর্যোগের শুরু থেকে তিনি ছিলেন সম্মুখ সারির যোদ্ধা। মানবিক জাগরণ ঘটাতে সমাজের ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সাথে পর্যায়ক্রমে যোগাযোগ রেখেছেন। করোনার দুর্যোগ শুরু হওয়ার পর থেকে খেটে খাওয়া হতদরিদ্র পরিবার, নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত মানুষের ঘরে খাবার পৌঁছাতে নিরঅলস পরিশ্রম অব্যহত রেখেছেন। ব্যক্তিগত তহবিল থেকে তাদের মাঝে নিত্য প্রয়োজনীয় খাবার বিতরণ করেছেন। আতিক আহমেদ সৌরভ তার নেতৃত্বে দলীয় নেতা কর্মীদের নিয়ে পৌর শহরের ১২টি ওয়ার্ডে কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিসিবি সভাপতি আলহাজ্ব নাজমুল হাসান পাপন এর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ঈদ উপহার ও ভৈরব উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. সায়দুল্লাহ মিয়ার উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ঈদ উপহার পৌর শহরের মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন সঠিকভাবে বণ্টনের মাধ্যমে। এমনকি এই মহামারিকালে আওয়ামী লীগ ছাড়াও যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীদের বিভিন্ন সহযোগীতা দিয়ে পাশে থেকেছেন।
এ বিষয়ে আতিক আহমেদ সৌরভ জনান, করোনা প্রাদুর্ভাবে যে ক্ষতি মানুষের হয়েছে তা দেখে ঘরে বসে থাকতে পারিনি। মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে ও আপনাদের দোয়া ও ভালবাসায় আমি আজ সুস্থ হয়েছি। এ করোনা আক্রান্তের অবস্থায় আপনাদের দেয়া ভালবাসায়ই ওষুধের মতো কাজ করেছে আমার শরীরে।
মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নাজমুল হাসান পাপন ভাই ও ভৈরব উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. সায়দুল্লাহ মিয়া ভাইসহ আমার দলের ও বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ নিয়মিত আমার খবরা খবর রেখেছেন। আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

এব্যাপারে ডাঃ মিজানুর রহমান কবির বলেন, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নিজ এবং হাসপাতালে চেম্বারে বসে রোগীর সেবা দিয়ে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন সচেতন মূলক পোষ্ট করে পরে নিজেই কোভিড-১৯ করোভাইরাসে আক্রান্ত হয়। আল্লাহর রহমতে কোভিড-১৯ করোভাইরাস থেকে মুক্ত হতে পেরে নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে হচ্ছে। তাছাড়া দলের নেতাকর্মী ও সংগঠনের সদস্য সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ নিয়মিত আমার খবরা খবর রেখেছেন। আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
এ বিষয়ে উপজেলা প.প. কর্মকর্তা ডা. বুলবুল আহম্মদ বলেন, সর্বশেষ ৪ জুলাই হাতে পাওয়া ১ জুলাই এর ৩৫টি রিপোর্টের মধ্যে ১৭টির রেজাল্ট হাতে পেয়েছি। এতে সবগুলি রিপোর্টই নেগেটিভ রয়েছে। ওইদিন মোট সুস্থ হয়েছেন ১৪ জন। ভৈরবে সর্বমোট ২৬৪২টি পরীক্ষার মধ্যে ২৫৮৮টি রিপোর্টের মধ্যে মোট আক্রান্ত হয়েছে ৫২০ জন। এতে মোট সুস্থ হয়েছে ৪২০ জন। এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন ১০ জন।
ভৈরবের মানুষ যদি নিয়মিত স্বাস্থ্য সচেতনতায় কমপক্ষে ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রাখে। নিয়মিত সাবান পানি দিয়ে হাত পরিস্কার করে এবং নিয়মিত মাস্ক পরিধান করে তাহলে ভৈরবে করোনা পরিস্থিতি আরো স্বাভাবিক হবে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »