কিশোরগঞ্জে হামিদনগর উপজেলা বাস্তবায়ন এলাকাবাসীর গণদাবী: মনিরুজ্জামান লিটন

নিজস্ব সংবাদদাতা: আব্দুলাপুর ইউনিয়নকে ভেঙ্গে কদমচাল, কাদিরপুর, কলিমপুর, খয়েরপুর, জিন্নাতপুর, মনোহরপুর ও সমারচরকে নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ নতুন আরো একটি ইউনিয়ন গঠনের দাবীতে যখন এলাকাবাসী সরব ঠিক এমন এক মুহুর্তে কলিমপুর গ্রাম আব্দুল্লাপুর ইউনিয়নে থাকা আবার অনেকে নতুন ইউনিয়নের সাথে থাকা নিয়ে বিরোধ যখন চরমে তখন মহামান্য রাষ্ট্রপতির পরামর্শক্রমে অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে কলিমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পক্ষে বিপক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হলে কলিমপুর ৫৮ ভোট বেশী পেয়ে নতুন ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রস্তাব পাশ হলে গ্রামের বিরোধ নিরসন হয়।

অধিক জনসংখ্যা ও বিচ্ছিন্ন এলাকা হওয়ার কারণে অনেকদিন যাবৎই খয়েরপুর-আব্দ্ল্লাপুর ইউনিয়নকে ভাগকরে একাধিক ইউনিয়ন করার আলোচনা হয়ে আসছে আবার অন্যদিকে বিভিন্ন সংগঠন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আব্দুল্লাপুর গ্রামবাসী আব্দুল্লাপুরকে উপজেলায় রূপান্তর করার জন্যেও দেশ-বিদেশে দাবী করে আসছিল ।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে অষ্টগ্রাম উপজেলায় বিগত ৩টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও তরুন রাজনীতিবিদ জনাব মো: মনিরুজ্জামান ভ‚ইয়া লিটন বলেন, আব্দুল্লাপুর ইউনিয়নে বর্তমান ভোটার ২১ হাজারেরও অধিক। পাশের ইউনিয়ন আদমপুরে প্রায় ১৯ হাজার ভোট। অন্যদিকে আব্দুল্লাপুর, আদমপুর ও কলমা এই ৩টি ইউনিয়নকে পূর্ণগঠিত করে নতুন একটি উপজেলা বাস্তবায়ন অত্র এলাকার আপামর জনসাধারণের প্রাণের দাবী।

তাই এলাকার একজন সচেতন রাজনীতিবিদ হিসেবে, বিভিন্ন স্তরের জনসাধারণের সাথে কথোকপথনের মাধ্যমে আমি দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় ভাটি বাংলার সিংহ পুরুষ, ভাটির শার্দুল হাওরের মাটি ও মানুষের প্রিয়জন মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো: আব্দুল হামিদ এর নামে হামিদনগর নামকরন করে নতুন উপজেলা বাস্তবায়নের জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি।

জনাব লিটন আরো বলেন এ দাবী বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মতৎপরতা চলমান থাকবে ইনশাল্লাহ। করোনা পরবর্তী সময়ে প্রস্তাবিত হামিদনগর উপজেলা বাস্তবায়নের দাবীতে সরকারের দৃষ্টি আবর্ষণ করে সর্বস্তরে জনতা নিয়ে এদাবী পূরণে আমাদের কার্যক্রম বেগবান করা হবে। আসুন হাতে হাত মিলিয়ে আমাদের প্রাণের দাবী বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি। বিভেদ নয় ঐক্য চাই হামিদনগর উপজেলা বাস্তবায়ন হওয়া এখন এলাকাবাসীর গণদাবী জাতীয় দাবীতে পরিণত করি।

জনাব মো: আব্দুল হামিদ এর রাজনৈতিক জীবন: ১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলার কামালপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া জনাব হামিদের রাজনৈতিক জীবনের শুরু ১৯৫৯ সালে, তৎকালীন ছাত্রলীগে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে। ১৯৬১ সালে কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন। ফলে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার তাঁকে কারারুদ্ধ করে। ১৯৬৩ সালে তিনি কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৬৫ সালে একই কলেজের সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন। ১৯৬৪ সালে কিশোরগঞ্জ সাবডিভিশনের ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং ১৯৬৬-৬৭ সালে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

আবদুল হামিদ ১৯৭০ সালে ময়মনসিংহ-১৮ থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে সর্বকনিষ্ঠ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন এবং ভারতের মেঘালয় রিক্রুটিং ক্যাম্পে এবং তৎকালীন সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ জেলার বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স (মুজিব বাহিনী) সাবসেক্টরের কমান্ডার পদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন।

১৯৮৬ সালে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সাংসদ নির্বাচিত হন। জনাব হামিদ সপ্তম জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন এবং ১৩ জুলাই, ১৯৯৬ থেকে ১০ জুলাই, ২০০১ পর্যন্ত এ পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি স্পিকার নির্বাচিত হন এবং ১১ জুলাই, ২০০১ থেকে ২৮ অক্টোবর, ২০০১ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। অষ্টম জাতীয় সংসদে তিনি ২০০১ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২৭ অক্টোবর ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সাংসদ নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি সর্বসম্মতিক্রমে দ্বিতীয় বারের মতো স্পিকার নির্বাচিত হন। তিনি ২০১৩ সালের ১৪ মার্চ বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। মোঃ আবদুল হামিদ ২০১৩ সালের ২২ এপ্রিল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। মেয়াদ শেষে দ্বিতীয় মেয়াদে আবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

আদমপুর থেকে বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সাজসেবক আব্দুল আলী মেমোরিয়াল আদর্শ বিদ্যা নিকেতনের প্রতিষ্ঠাতা জনাব মো: সোহরাব উদ্দিন বলেন, আদমপুর, আব্দুল্লাপুর ও কলমা ইউনিয়নকে নিয়ে নতুন একটা উপজেলা বাস্তবায়নে আমি দীর্ঘদিন যাবৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও জনসাধারণের সাথে কথা বলে যতটুকু জেনেছি তাহলো নতুন উপজেলা হোক কিন্তু এর কেন্দ্রবিন্দু যেন আদমপুর হয়। কারণ আদমপুর এর এর প্রশাসনিক ভিত্তি স্থাপন করা হলে তা সকলের জন্যই ভাল হবে। আর সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পারি আদমপুর, আব্দুল্লাপুর ও কলমা ইউনিয়নগুলো পূর্ণগঠন করে হামিদনগর উপজেলা নামকরণে নতুন উপজেলা বাস্তবায়নের দাবী উঠে। যারা সুন্দর এ প্রস্তাবটি উপস্থান করেছেন তাদের সাধুবাদ জানাই কারণ ভাটির কীর্তিমান পুরুষ দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় মহামান্য রাষ্ট্রপতির নামে নতুন উপজেলার নাম করণ করা হলে আমরা ভাটি এলাকা গর্বিত হবো। সকলকে ভেদাভেদ ভুলে হামিদনগর উপজেলা বাস্তবায়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার জন্য আহবান জানান।

বিশিষ্ট সমাজসেবক ও দানবীর হাওর এলাকায় অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা জনাব মুহাম্মদ কামরুজ্জামান চৌধুরীর সাথে কথা বললে তিনি হাওর এক্সপ্রেসকে জানান আব্দুল্লাপুর, আদমপুর ও কলমা ইউনিয়নকে নিয়ে আব্দুল্লাপুর উপজেলা বাস্তবায়নে আমিও একমত। আব্দুল্লাপুর উপজেলা হোক এটা আমাদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবী। যারা এ ৩টি ইউনিয়নকে নিয়ে নতুন উপজেলা বাস্তবায়ন হোক চান তাদের প্রতি আমার অনুরোধ কাঁদা ছোড়াছোড়ি না করে ঐক্যভাবে নতুন উপজেলা বাস্তবায়নে সকলকে কাজ করার আহবান জানান।

সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবি খালেকুজ্জামান তপন হাওর এক্সপ্রেসকে বলেন, আমার মতামত হলো, কলমা, আদমপুর ও আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নকে নিয়ে একটি নতুন উপজেলা বাস্তবায়ন করা হোক। একই সাথে আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নকে ভেঙ্গে একাধিক ইউনিয়ন করা হোক।

নতুন উপজেলার নামকরন ‘হামিদনগর’ করা হলে এলাকাবাসী সম্মানিত হবেন। এর হেড কোয়ার্টার হতে পারে আব্দুল্লাহপুর গ্রামের উত্তর দিকে। এখানে পর্যাপ্ত জায়গা আছে। অথবা কলিমপুর-আব্দুল্লাহপুর এর মাঝামাঝি কোথাও।

প্রিয় এলাকাবাসী, আসুন উন্নয়নের স্বার্থে আমরা ঐক্যবদ্ব হই। আপনাদের সুচিন্তিত মতামত এবং ঐক্যবদ্ব অবস্হান নতুন একটি ‘উপজেলা’ পরিষদ বাস্তবায়নের দাবীকে সুদৃঢ় করবে এবং অত্র এলাকাবাসীর লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নে অবদান রাখবে।

আসুন যে যেখানে যে অবস্হায়-ই থাকি আওয়াজ তুলি ‘হামিদনগর’ নামে নতুন উপজেলা পরিষদের বাস্তবায়ন চাই।

এই বৈশ্বিক মহামারী করোনা কালীন সময়ে পারষ্পরিক সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখি, নিজে ভাল থাকি প্রতিবেশীকে ভাল রাখি। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »