কুলিয়ারচরে শফিকুল আলম নামে এক স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগ

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে শফিকুল আলম নামে এক স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৪৪ ও ১৪৫ ধারা ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে।

শফিকুল আলম উপজেলার লক্ষ্মীপুর ফকিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও উত্তর লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত হাজী মো. গোলাম হোসেনের ছেলে।

ওই স্কুল শিক্ষকের বড় ভাই রফিকুল আলম (৫০) অভিযোগ করে বলেন, প্রায় ২ বছর ধরে পৈত্রিক সম্পত্তির ভাগ ভাটোয়ারা নিয়ে তাদের ভাই বোনদের মধ্যে বিরোধ চলিয়া আসছে। উক্ত বিরোধের জেরধরে গত ২০ ডিসেম্বর সকালে তার বড় ভাই শামসুল আলম (৫৫), নূরুল আলম (৫৩), ছোট ভাই স্কুল শিক্ষক শফিকুল আলম (৪৫) বোন রহিমা খাতুন (৫৭), রাজিয়া খাতুন (৪৭), আয়েশা খাতুন (৪২), ভগ্নিপতি সাইদুর রহমান (৫০) ও ভাতিজা ফেরদৌস উর রহমান (২০) মিলে দেশীয় অস্ত্রাধী নিয়ে রফিকুল আলমের বসতবাড়ীতে প্রবেশ করিয়া অতর্কিত তাদের উপর হামলা করে মারধর সহ তার জায়গা জবর দখলের চেষ্ঠা করে। হামলায় রফিকুল আলম সহ তার পরিবারের ৪ সদস্য আহত হয়।

হামলার পর নিজেদের দোষ ঢাকতে এ ঘটনার পর দিন গত ২১ ডিসেম্বর তার বোন আয়েশা খাতুন বাদী হয়ে রফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামী করে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নং-২ কিশোরগঞ্জে একটি পিটিশন মামলা নং-২৫১/২০ দায়ের করে।

অপর দিকে ওই ঘটনার বিচার দাবী করে গত ২৩ ডিসেম্বর রফিকুল আলম বাদী হয়ে তার ভগ্নিপতি ছায়েদুর রহমান (৫০) কে প্রদান আসামী করে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে কুলিয়ারচর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।

একই দিনে আয়েশা আক্তার ফের বাদী হয়ে ফৌঃ কাঃ বিঃ আইনের ১৪৪ ও ১৪৫ ধারায় বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কিশোরগঞ্জে একটি সি আর মোকাদ্দমা নং-১৩০৪/২০২০ দায়ের করে। ওই দিনের কোর্ট স্মারক নং-৪০৬৫ মূলে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে গত ২৪ ডিসেম্বর কুলিয়ারচর থানার এ এস আই মো. সাকিনুল ইসলাম উভয় পক্ষকে গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর মৌজার আর এস দাগ নং-২৫০২১, শ্রেণী কান্দা ও দাগ নং-২৫১০৯, শ্রেণী বাড়ী, মোট ৩৪ শতাংশ বিরোধীয় ভূমিতে উভয় পক্ষের মধ্যে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নির্দেশ প্রদানের মাধ্যমে ফৌঃ কাঃ বিঃ আইনের ১৪৪ ও ১৪৫ ধারা বিধান মোতাবেক নোটিশ জারি করেন। নোটিশ প্রাপ্ত হয়ে রফিকুল আলমের প্রতিপক্ষের সকলের যোগসাজসে আয়েশা আক্তারের নির্দেশে ছোট ভাই সরকারি স্কুলের শিক্ষক শফিকুল আলম লোকজন নিয়ে গত ২৯ ডিসেম্বর সকালে ১৪৪ ও ১৪৫ ধারা ভঙ্গ করে বিরোধীয় ভূমি থেকে বাঁশ ঝাঁড় কেটে বিজ্ঞ আদালতের আদেশ অমান্য করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। বিষয়টি আইনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেন রফিকুল আলম।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত স্কুল শিক্ষক শফিকুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিরোধীয় ভূমি থেকে বাঁশ কেটে নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, তার বোন আয়েশা আক্তার অভিযোগ দেওয়ার সময় তিনি তার সাথে থাকলেও অভিযোগের মধ্যে কি লেখা ছিল তা তার জানা ছিল না। তিনি দাবী করেন তার জায়গা থেকেই বাঁশ কেটে নেওয়ার পর ভাই রফিকুল আলম পুলিশ দ্বারা বাঁধা নিষেধ দেওয়ার পর তিনি জানতে পারেন উক্ত ভূমিতে ১৪৪ ও ১৪৫ ধারা জারি করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »