চিনকে দেখে মোদি সরকার ভয়ে আছে বলেই কংগ্রেস নেতা রাহুলের সন্দেহ

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেক্স:
লাদাখে সীমান্তরেখায় ভারত ও চিনের টানাপোড়েন নিয়ে এবার সরকারকে খোঁচা দিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতির দাবি, সরকারকে নিশ্চিত করে বলতে হবে, কোনও চিনা সেনা ভারতের সীমানায় প্রবেশ করেনি।

লাদাখ সীমান্তে ভারত-চিন উত্তেজনা নিয়ে গত কয়েকদিনে একাধিকবার সরব হয়েছে কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, চিনের কাছে কঠোরতা দেখাতে ব্যর্থ, নমনীয় মোদি সরকার। এই ইস্যুতে কেন্দ্রের নীরবতা নিয়েও সম্প্রতি প্রশ্ন তুলেছেন রাহুল। তিনি বলেন, ‘চিন সীমান্তের বর্তমান স্থিতি নিয়ে সরকারে নীরবতা বহু জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিচ্ছে। যা এই সংকটের সময় কাম্য নয়।’ তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘সরকার কি নিশ্চিত করে বলতে পারবে, একজন চিনা সেনাও সীমানা পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেনি?’ রাহুলের মতে, চিনা সেনাবাহিনী ভারতের সীমান্তে ইতিমধ্যেই প্রবেশ করে ফেলেছে। অথচ সরকার তা নিয়ে নীরব।

উল্লেখ্য, গত প্রায় ৪ সপ্তাহ ধরে লাদাখে লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল বরাবর একপ্রকার যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ভারত ও চিনের সেনাবাহিনী। দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে রীতিমতো সংঘর্ষের বাতাবরণ সৃষ্টি হলেও সরকারিভাবে ভারত এ নিয়ে মুখ খোলেনি। মঙ্গলবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে জানান, ‘লাদাখের বিভিন্ন সেক্টরের একাধিক ফরোয়ার্ড পোস্টে চিন স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি সেনা মোতায়েন করেছে। জবাবে ভারতও বিপুল সেনা মোতায়েন করেছে।’

দুই দেশের বাহিনী ৫০০ মিটার দূরত্বে মুখোমুখি অবস্থান করছে। প্রায় ২৫ দিন ধরে চিনা বাহিনী গালওয়ান নদী উপত্যকা, দারবুক, দৌলত বেগ ওল্ডি-সহ একাধিক সেক্টরের কাছে অস্ত্রশস্ত্র সহ ঘাঁটি গেড়েছে। কারাকোরাম পাসের কাছে ভারত রাস্তা তৈরি বন্ধ না করলে সেনা সরাবে না বলে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে চিন। রাস্তা তৈরি বন্ধ হবে না বলে ভারতও পালটা জানিয়ে দিয়েছে। ফলে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। আর এ বিষয়ে কেন্দ্রের নীরবতাকেই হাতিয়ার করতে চাইছেন রাহুল গান্ধী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »