ঢাকার ৪৫টি চট্টগ্রামের ১১টি এলাকাকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বা ‘রেড জোন ‘ হিসেবে চিহ্নিত

বিশেষ প্রতিনিধি:
কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস সংক্রমণ বিবেচনায় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার ৪৫টি এবং চট্টগ্রামের ১১টি এলাকাকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বা ‘রেড জোন ‘ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও এসব এলাকার পুরোটাজুড়ে লকডাউনের সম্ভাবনা নেই।

লকডাউন বাস্তবায়নের কাজে যুক্ত একজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী আজ রোববার sanews24bd.com কে বলেছেন, তাঁদের সিদ্ধান্ত হলো বড় এলাকা নয়, বড় এলাকার অধিক সংক্রমিত ছোট এলাকায় কার্যকর লকডাউন করা। আর এটি একযোগে আগামীকাল থেকেই শুরু হবে এমন নয়। পর্যায়ক্রমে তা হবে।

সংক্রমণ বিবেচনায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার ৪৫টি এবং চট্টগ্রামের ১১টি এলাকাকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বা ‘রেড জোন ‘ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও এসব এলাকার পুরোটাজুড়ে লকডাউনের সম্ভাবনা নেই।

লকডাউন বাস্তবায়নের কাজে যুক্ত একজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী আজ রোববার sanews24bd.com কে বলেছেন, তাঁদের সিদ্ধান্ত হলো বড় এলাকা নয়, বড় এলাকার অধিক সংক্রমিত ছোট এলাকায় কার্যকর লকডাউন করা। আর এটি একযোগে আগামীকাল থেকেই শুরু হবে এমন নয়। পর্যায়ক্রমে তা হবে।

যেমন, ঢাকার রাজাবাজারের মধ্যে কেবল পূর্ব রাজাবাজার এলাকায় লকডাউন চলছে। আর যেসব এলাকা লকডাউন করা হবে সেখানে সাধারণ ছুটি থাকবে। ছুটির বিষয়ে আগামীকাল সোমবার প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলেsanews24bd.com কে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত হলো ঢাকা মহানগরীর যেসব এলাকায় প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে ৬০ জন বা তার বেশি মানুষের শরীরে করোনা শনাক্ত হবে ওই এলাকাকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বা লাল এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। আর ঢাকার বাইরে কোনো এলাকায় যদি প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে ১০ জন বা তার বেশি করোনা রোগী থাকে তাহলে সেটি লাল এলাকা হবে।

আর ঢাকায় প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে তিন থেকে ৫৯ জন আক্রান্ত হলে সেটি হবে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বা হলুদ এলাকা। ঢাকার বাইরে লাখে তিন থেকে ৯ জন রোগী থাকলে হলুদ এলাকা হবে। আর কোনো সংক্রমণ নেই বা এক লাখ মানুষের মধ্যে তিনজনের কম আক্রান্ত থাকলে সেই এলাকাটিকে নিম্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বা সবুজ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।

আরো জানা গেছে, করোনা প্রতিরোধে গঠিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় কারিগরি দলের (গ্রুপ) গতকাল শনিবারের এক সভায় প্রাথমিকভাবে লাল বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে কতগুলো এলাকাকে চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭টি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৮ এলাকা রয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় ১‌০টি এলাকা রয়েছে। এখানে তুলনামূলক বড় এলাকাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যেমন, মিরপুর। কিন্তু এখন পর্যন্ত পুরো মিরপুর এলাকায় লকডাউনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
সিটি করপোরেশন এলাকায় এবারের ভিন্নমাত্রার লকডাউন বাস্তবায়নের কাজটি হচ্ছে সিটি করপোরেশনের অধীনে। সিটি করপোরেশনগুলো স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে। এই লকডাউন বাস্তবায়নের কাজে যুক্ত আছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। তিনি sanews24bd.com কে বলেন, সীমিত এলাকা নিয়ে লকডাউনের চেষ্টা হচ্ছে। কারণ এই পরিস্থিতিতে মোকাবিলার জন্য সামর্থ্যও একটি বিষয়।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনেও বলেছেন রেড জোন চিহ্নিত কোনো বড় এলাকায় নিয়ে লকডাউন হবে না। একটি এলাকার সংক্রমণ বেশি থাকা অংশটিকে লকডাউন করা হবে। আর কাল থেকেই তা হবে এমন নয়। এটি পর্যায়ক্রমে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মন্ত্রী sanews24bd.com কে বলেন, যেমন ধরুন মোহাম্মদপুর এলাকা। সেই এলাকার যে অংশে অধিক সংক্রমণ রয়েছে কেবল সেটিই লকডাউন হবে। পুরো এলাকা নয়।

নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ১ জুন সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক সভায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বিবেচনায় দেশের বিভিন্ন এলাকাকে লাল, হলুদ ও সবুজ এলাকায় ভাগ করে ভিন্নমাত্রায় এলাকাভিত্তিক লকডাউন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। অধিক সংক্রমিত এলাকাকে বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়ে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সম্মতি দিয়েছেন।

তারই ধারাবাহিকতায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব রাজাবাজারে গত মঙ্গলবার রাত ১২টার পর থেকে লকডাউন শুরু হয়। এখন ঢাকার বাইরেও কিছু কিছু এলাকায় তা শুরু হয়েছে।

আজ পঞ্চম দিনের মতো পূর্ব রাজাবাজারে লকডাউন চলছে। বেলা আড়াইটার দিকে এই এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য একমাত্র খোলা রাখা পথ গ্রিন রোড সংলগ্ন আইবিএ হোস্টেলের কাছের সড়কে সরেজমিনে দেখা গেছে, জরুরি কাজে জড়িত ছাড়া অন্যদের প্রবেশে ব্যাপক কড়াকড়ি। আগের চার দিনও কড়াকড়ি ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »