তারকাদের উপস্থিতিতে জমজমাট বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে এফডিসি

শামীম আহমেদ:
মহামরী করোনা ভাইরাসে থমকে যায় গোটা বিশ্ব। যার প্রভাব পরে শোবিজ অঙ্গনেও। দীর্ঘ তিন মাস কর্মহীন ছিল বিনোদন অঙ্গনের সবাই। সব ধরনের শুটিং বন্ধ ছিল। লকডাউন উঠে গেলে আস্তে আস্তে শুরু হয় শুটিং। তবে এফডিসি ততোদিন শুটিং শূন্য ছিল। ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন লোকেশনে সিনেমার শুটিং শুরু হলেও এফডিসি ছিল ফাঁকা। একটা সময় এফডিসি মানেই ছিল শুটিং জোন। তারকা নির্মাতাদের উপস্থিতিতে মুখরিত থাকত এফডিসি। শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকত ফ্লোরগুলো। ভক্তরা প্রিয় তারকাকে এক নজর দেখার জন্য রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে এফডিসির গেটে অপেক্ষা করতেন। কিন্তু কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। চেনা এফডিসি অচেনা রুপে। নতুন সিনেমা নেই, শুটিং নেই। এখানে সিনেমার চেয়ে সমিতি বেশি। ‘নাই কাজ তো খই ভাজ’ কাজের চেয়ে অকাজের লোক বেশি। যার ফলে ঝগরা ফ্যাসাদ লেগেই আছে।

দীর্ঘদিন ফাঁকা পড়ে থাকলেও চলতি মাসের শুরু থেকে একটু একটু শুটিং বাড়তে থাকে চলচ্চিত্রের আঁতুড় ঘর এফডিসিতে। এর আগে শুটিং হয় ‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই’ ছবির। শাকিব খানের নতুন ছবি ‘নবাব এলএলবি’ দিয়ে জমে উঠেছে এফডিসি। গত বৃহস্পতিবার এফডিসি যেন স্বরুপে ফিরে আসে। সিনেমা, বিজ্ঞাপন, মিউজিক ভিডিওর শুটিং দিয়ে প্রাণ ফিরে পায় প্রাণহীন এফডিসি। লাইট ক্যামেরা অ্যাকশনে শুটিং ইউনিটের মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয় প্রশাসনিক ভবনসংলগ্ন চত্বর। ২ নম্বর ফ্লোরে শুটিংয়ে অংশ নেয় চিত্রতারকা শাকিব খান, মাহিয়া মাহি, অর্চিতা স্পর্শিয়া, শহীদুজ্জামান সেলিম, শাহেদ আলী, আনোয়ার সহ আরও অনেকে।

প্রশাসনিক ভবনের সামনে সাতসকাল থেকে চলছিল নিরব, ইমন, পিয়ার নতুন বিজ্ঞাপনের শুটিং। পরিচালনা করছেন সাইফ চন্দন। ভিন্টেজ মাল্টিমিডিয়া প্রযোজিত স্টার পাইপ এন্ড প্লাস্টিক লিঃ এর ‘স্টার চেয়ার’র বিজ্ঞাপনে প্রথমবার একসাথে দেখা যাবে তাদের। সন্ধ্যা নামার ঠিক আগে প্রশাসনিক ভবনের সামনে হাজির হয় এ প্রজন্মের চিত্রনায়ক জিয়াউল রোশান। কিন্তু তিনি কেন জানতে চাইলে বলেন, বিজ্ঞাপনের শুটিং শেষ হলে ‘ওস্তাদ’ ছবির টাইটেল গানের শুটিং হবে যার কারনে এফডিসিতে আসা। দীর্ঘদিন পর সবাইকে পেয়ে ভালো লাগছে।
সাইফ চন্দন বলেন, যেহেতু গানের শুটিং করতেই হবে তাই একসাথে দুটি কাজ করতে পারলে আমাদের সবারই ভালো। বিশেষ করে প্রযোজকের কিছু টাকা বেঁচে যাবে। এতে করে আমাদের সবারই লাভ। তাই বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ের সাথে গানের শুটিংয়ের পরিকল্পনা করা। কিছু সময় যেতেই দেখা যায় ‘ওস্তাত’ ছবির নবাগত নায়িকা উষ্ণ হককে। কালো বোরকা পরে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থাকার পর তিনি স্বশরীরে এফডিসি আসেন ওস্তাত টিমের সাথে দেখা করতে।

অন্যদিকে এক নম্বর ফ্লোরে শুটিং হয় কন্ঠশিল্পী কাজী সোমার গানের মিউজিক ভিডিওর। গানের শিরোনাম ‘বাবুয়া বাবুয়া’। ভিডিও নির্মাণ করছেন নৃত্যপরিচালক হাবিব। কাজী সোমার বিপরীতে অংশ নেন সাদমান সামি। এছাড়া এদিন এফডিসিতে দেখা যায় শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান, নৃত্যপরিচালক মাসুম বাবুল, চিত্রনায়ক জয় চৌধুরী, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মানিক ও সৈকত নাসির, মোহাম্মদ আসলাম, প্রযোজক জেনিফার ফেরদৌস, অভিনেতা সুব্রত, জাহিদ, যু্বরাজ, নাট্যনির্মাতা সোহেল তালুকদার সহ আরও অনেককে।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) এই ধরনের জমজমাট দৃশ্য বহুদিন ধরে দেখছেন না নিয়মিত আসা অনেকে। তাদের মতে, চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে এফডিসির পরিবেশ তো আসলে এমনই থাকার কথা। এই এলাকা সব সময়ই সিনেমার শুটিংয়ে জমজমাট থাকবে- এমনই প্রত্যাশা শিল্পী নির্মাতা ও প্রযোজকদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »