নওগাঁ-৬ আসনের দলীয় মনোনয়ন ফর্ম তুললেন সদ্য প্রয়াত এমপি ইসরাফিল আলমের স্ত্রী সুলতানা পারভীন বিউটি

এমরান মাহমুদ প্রত্যয়,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:

সংসদীয় এলাকা ৫১, নওগাঁ-৬(আত্রাই-রাণীনগর) উপনির্বাচনে নৌকা মার্কার প্রার্থী হতে মনোনয়ন ফরম তুলেছেন সদ্য প্রয়াত ইসরাফিল আলম এমপি মহোদয় সহধর্মিণী সুলতানা পারভিন বিউটি। আজ ৩ ভাদ্র (১৮ আগস্ট) মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে নওগাঁ-৬ আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম কেনেন তিনি। উল্লেখ্য, রাণীনগর ও আত্রাই এই দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত নওগাঁ-৬ ও সংসদীয় আসন-৫১। প্রায় ১ যুগ শাসন করার পর গত ২৭ জুলাই সাংসদ ইসরাফিল আলম মারা যাওয়ায় আসনটি শুন্য হয়। প্রয়াত সাংসদ ইসরাফিল আলমের স্ত্রী পারভীন সুলতানা বিউটি বলেন, এই আসনে স্বামীর পাশাপাশি আমিও বিভিন্ন সময় এই দুই উপজেলার মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছি। যদি প্রধানমন্ত্রী আমাকে সুযোগ দেন তাহলে আমি ইসরাফিলের রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করবো ইনশাল্লাহ। সারা বিশ্বে এক সময় রক্তাক্ত জনপদ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল জেলার রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলা। সেই সময় এই জনপদে সর্বহারারা দিনে-দুপুরে মানুষকে জবাই করতো। সর্বহারার অধ্যায় শেষ করতেই উত্থান হয় জেএমবি নামক বাংলা ভাইয়ের। দীর্ঘদিন চলে তাদের নিমর্ম সন্ত্রাসী তাণ্ডব। তারা মানুষদের গোয়ালের গরু রাখেনি, ধানের গোলায় ধান রাখেনি। শুরু করেছিলো লুটপাটের রাজ্য। পরবর্তিতে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর তৎপরতায় ও সদ্য প্রয়াত সাংসদ ইসরাফিল আলমের নেতৃত্বে সেই রক্তাক্ত জনপদে ফিরে আসে শান্তির সুবাতাস। বন্ধ হয় জবাই, হানাহানি ও রাহাজানি। জানা গেছে, ১৯৯১ ও ৯৬ সালে বিএনপি থেকে মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীর। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাবেক সাংসদ মুক্তিযোদ্ধা ওহিদুর রহমান। ২০০১ সালে ইসরাফিল আলমকে পরাজিত করে আলমগীর কবীর বিজয়ী হন। ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শেষের দিকে আলমগীর কবির এলডিপিতে যোগ দেন। একই বছরে এলডিপি থেকে পদত্যাগ করেন। ২০০৮সালে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন ইসরাফিল আলম। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বুলু। এরপর ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীরকে পরাজিত করে আবারোও বিজয়ী হন ইসরাফিল আলম। মূলত এ আসনটি চারবার বিএনপির অধীনে থাকলেও ২০০৮ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »