পেশায় কাঠ মেস্তরী নেশায় কবি বিজয় চন্দ্র বান্ধবী। কেউ কথা রাখলেন না…!!!

কিশোরগন্জ জেলার কুলিয়ারচর থানার নাপিতের চর গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন এই কবি।
কত সালে জন্মগ্রহণ করেছেন তার ঠিক মনে নেই,তবে ১৯৮২/৮৩ সালে হবে হয়তো।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ার সময়কালে বাবা মনোরঞ্জন বিশ্বাস স্বর্গে চলে যান।
তিন ছেলে আর দু মেয়ের মধ্যে বিজয় সবার ছোট।
অভাবের সংসার, মা সুশীলা বালার
সাথে থেকে নিজেও টুকটাক কাজ করতে থাকেন।

সাথের বন্ধুরা যখন ক্রিকেট কিংবা ফুটবল খেলে কবি তখন কাট মেস্তুরীর যোগালি হিসাবে কাজ করেন।

চলার পথে এক কিশোরীর প্রেমে পড়ে কবি।
ভালোবেসে বান্ধবী বলে ডাকতেন তাকে।
সময়ের প্রয়োজনে
হঠাৎ করেই বান্ধবী সব সম্পর্ক ছিন্ন করে পারি জমান ভারতে।

কষ্টে নীল হয়ে যায় বিজয়ের মনের আকাশ।
যে মনে ছিলো সন্ধ্যার ঝিকিমিকি তাঁরা -আজ সেখানে..কাল বৈশাখের ঝড়।

সেই সময় হঠাৎ কলম তুলে নেন
হাতে।
মনের বিরহ প্রকাশ করতেই লিখে ফেলেন নিষ্ঠুর ভারতী নামে একটা কবিতা।
সেই থেকে শুরু গান আর কবিতা লেখা।
তেমনি কয়েকটি গানের কলি আমাকে গেয়ে শুনালেন।

(কবিতার অংশ)
* আমার পৃথিবী আধারে ডাকা
আমার পৃথিবীতে আমি একা
তোমার জীবনে, হাসি আর গানে
দুটি চোখে তোমার স্বপ্ন আঁকা *।।

কাঠ মেস্তুরীর সকাল সন্ধ্যা কাজ করেন কবি।
৪০০/৫০০ টাকা পারিশ্রমিক পান। ইচ্ছে করলে আরো বেশি টাকা উপার্জন করতে পারতেন। কিন্তু সে দিকে তার খেয়াল নেই।আর থাকবেই বা কেমন করে? তার মন-প্রাণজুড়ে আছে যে কেবল গান আর কবিতা।

নরসিংদীর (বেলাবো) নাপিতেরচর ব্রীজের সাথে এক ফার্নিছারের কারখানায় দেখা হয়
কবির সাথে,
হ্যাংলা পাতলা দেহের অধিকারী, দুই কন্যা সন্তানের জনক। আক্ষেপ করে বলেন,
ভাই,
গরীবের কোন মূল্য নেই।
প্রতিদিন দু তিনটি করে গান আর কবিতা লিখি।
মাঝেমধ্যে এলাকার ছেলেরা হারমনি তবলা নিয়ে সন্ধ্যায় গানের আসর বসায়। এটার নাম দিয়েছে,** বিজয় চন্দ্র বান্ধবীর গানের মেলা** বর্তমানে ইউটিউবে এই নামে নতুন আমার একটি চ্যানেল রয়েছে।

(গানের অংশ)

** আমি কেমনে রইবো
মাটির ঘরে
নেইতো আলো অন্ধকারে
আপন জনের মায়ার বাধন
ভাবলে ঝড়ে দু নয়ন

আসবো না আর ফিরে আমি কেমনে রইবো মাটির ঘরে **।।

এমনি ভাবে কবির বেশির ভাগ গানই বিরহের আর কবিতা গুলো দেশাত্মবোধক।

মাঝে মধ্যে হাতের কাজও থাকেনা তখন অভাবে পরতে হয়। যে দিন কাজ থাকেনা সেই দিন নদীর পারে বসে গান আর কবিতা লেখেন মনের মাধুরি মিশিয়ে।

(গানের অংশ)
*যতই হোন না অপরাধ
ছারবোনাকো তোমার হাত
তোমার মাঝে খুঁজে নিবো
আমার বেঁচে থাকার সাধ *।

কবির বর্তমান কবিতায় সংখ্যা (২১০০) আর গানের সংখ্যা প্রায় (৪৮০০) মত।

(গানের অংশ)
* কোন ডালে ভর মানেনা
ভেঙে পরে নিচে…
আরো কত কষ্ট যানি
এই কপালে আছে *।।

শত শত কবিতা আর গানের মাঝে কোন কবিতা কিংবা কোন গান প্রকাশ হয়নি আজো।
২০১৪ সালে একদিন সাংবাদিক ইকবাল খন্দকারের নজরে আসে এই কবি।
তাকে নিয়ে ইত্তেফাকের তরুণ কন্ঠে ফিচার লিখেন।

** পেশায় কাঠ মেস্তুরী
নেশায় কবি **

ইত্তেফাক পত্রিকায় কবির নামে নিউজ আসলে এলাকার অনেকেই কবিতার বই কিংবা গানের ক্যাসেট বের করার সহযোগিতা করবেন বলে আশা দিয়েছিলেন। কিন্তু আজ ছয় বছরের পরও কেউ কথা রাখলেন না।
তবু এই নিরব কবি হতাশ হননি। আশায় বাসা বেঁধেছেন বুকে। একদিন তার লেখা গান দেশের নামি/দামি শিল্পীদের কন্ঠে থাকবে।
ফরিদপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ শাহ আলম বলেন,
বিজয় চন্দ্র বান্ধবীর, একটা কবিতার বই প্রকাশ করতে সর্বতক সহযোগীতা করবো।
                                                                                                 লেখক: মোঃ দিদার হোসেন পিন্টু (কলামিষ্ট ও সাংবাদিক)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »