বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক মো:কামরুল এর বিভিন্ন অনিয়ম,দূর্নীতি ও জাল সনদের বিষয়ে উপ-পরিচালক,মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর,ময়মনসিংহ অঞ্চল,ময়মনসিংহ মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ

শামীম আহমেদ :
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলাস্হ জনতা আইডিয়াল জুনিয়র হাই স্কুলের নিয়োগ বিহীন ভূয়া প্রধান শিক্ষক মো:কামরুল ইসলাম বিদ্যালয়ের কমিটি না থাকায় গত ৬মে ২০২০ ইং তারিখে নিয়োগ সংক্রান্ত ভূয়া কাগজ-পত্র ও জাল বি.এড.সনদের মাধ্যমে উপ-পরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, ময়মনসিংহ অঞ্চল বরাবরে প্রধান শিক্ষক হিসেবে এমপিও ভুক্তিকরণের জন্য আবেদন করলে,জাল সনদের জন্য তার আবেদন বাতিল করা হয় এবং বি.এড.সনদ ছাড়া পুনরায় ২৭মে ২০২০ ইং তারিখে আবেদন করলেও বি.এড ডিগ্রি যোগ্যতার অভাবের জন্য আবারও তার আবেদন বাতিল করেন উপ-পরিচালক । গত জুন মাসের শেষের দিগে বিদ্যালয়ের কমিটি অনুমোদন হলে কমিটির সভাপতি মো:কামরুল ইসালমকে নির্দেশ প্রদান করেন প্রধান শিক্ষক হিসেবে তার নিয়োগ সংক্রান্ত সকল কাগজ-পত্র কমিটির নিকট উপস্হাপন করার জন্য এবং সভাপতির অনুমতি ছাড়া পুনরায় আবেদন দাখিল না করার জন্য কিন্তু মো:কামরুল ইসলাম গত ২৮জুলাই ২০২০ ইং তারিখে সভাপতির অনুমতি ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বাক্ষর ছাড়া ভূয়া নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজ-পত্রের মাধ্যমে এমপিও ভুক্তির জন্য পুনরায় আবেদন দাখিল করলে বিদ্যালয়ের সভাপতি কুলিয়ারচরের উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আলতাফ হোসেন কে অনুরুদ করেন মো:কামরুল ইসলামের কাগজ-পত্র অগ্রায়ণ না করার জন্য এবং তিনিও আশ্বস্ত করেন যে ভূয়া কাগজ-পত্রের আবেদন আর অগ্রায়ণ করা হবে না।অন্য দিকে গত ০৩আগস্ট ২০২০ ইং তারিখে বিভিন্ন অনিয়ম,দূর্নীতি ও ভূয়া নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজ-পত্র তৈরীর অভিযোগে মো:কামরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করে এ বিষয়ে তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করে বিদ্যালয়ের কমিটি।গত ০৬জুন ২০২০ইং তারিখে তদন্ত কমিটির উপস্হাপিত রির্পোটে মো:কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২৪ লক্ষ টাকা দূর্নীতি ও নিয়োগ সংক্রান্ত মূল কাগজ-পত্রের অস্হিত্বহীনতা উঠে আসে। তদন্ত রিপোর্টের আলোকে বিদ্যালয়ের কমিটি মো:কামরুল ইসলামের কোন প্রকার নিয়োগ অস্হিত্ব না থাকায় “স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষকগণের চাকুরীর শর্ত বিধিমালা১৯৭৯” এর ১৫ ধারায় অব্যহতি প্রদান করেন।বিদ্যালয়ের কমিটি মো: কামরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত এবং অব্যহতি প্রদানের বিষয়টি কুলিয়ারচর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো আলতাফ হোসেন কে লিখিত ভাবে অবগত করার সত্ত্বেও তিনি ভূয়া কাগজ-পত্র দিয়ে এমপিও ভুক্তির আবেদন টি গত ০৯আগস্ট ২০২০ ইং তারিখ রাতে তরিগরি করে অগ্রায়ণ করেন এবং কিশোরগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসারও পরের দিন সকালেই অগ্রায়ণ করেন।এ বিষয়ে কুলিয়ারচর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো:আলতাফ হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিধিমোতাবেক মো:কামরুল ইসলাম সাময়িক বরখাস্তকৃত এবং পরবর্তীতে অব্যহতি প্রাপ্ত কিন্তু তিনি তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে নিয়োগবিহীন, ভূয়া ও অব্যহতি প্রাপ্ত ব্যক্তির কাগজ-পত্র অগ্রায়ণ করতে বাধ্য হয়েছেন।
তাছাড়া উক্ত স্কুলের এক শিক্ষক বলেন, ২০০৫ সালের পরে শিক্ষক নিবন্ধন পাশ ছাড়া শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ হতে পারেনা, কথিত প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলামের নিয়োগ হয় ২০১০ ইং সালে স্পষ্ট তাকে নিয়োগদানকারী পরিচালনা পর্ষদ এর সাবেক সভাপতি মোঃনুরুজ্জামান এবং বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ এর সভাপতি শাহিনুর রহমান সুমন তার নিয়োগ দ্বাড়া ২০১০ সালে দেওয়া তার স্পষ্ট প্রমানিত তারপও কিভাবে এমপিওভুক্তিতে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে তা? এব্যাপারে,মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর,ময়মনসিংহ অঞ্চল এর উপ-পরিচালক আবু নূর মোহাম্মদ আনিসুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলাস্হ জনতা আইডিয়াল জুনিয়র হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো:কামরুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে অনেক লিখিত অভিযোগ এসেছে আমরা তা তদন্ত করে দেখবো। এবং তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »