বরগুনার আমতলীতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুললেও মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব

 আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি  ঃ 

সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক বরগুনার আমতলী উপজেলার পৌরশহরসহ বিভিন্ন হাট, বাজারে দোকানপাট খোলা হয়েছে। বিভিন্ন কাপড়ের দোকান, গার্মেন্টস, কসমেটিক্স, জুতা ও ইলেক্ট্রনিক্সের দোকানে দেখা গেছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। বিশেষ করে কাপড়ের দোকান ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ করা গেছে। ক্রেতাদের মধ্যে শতকরা ৮০% নারী। আর এসব দোকানে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব। যদিও বিক্রেতারা বলছেন, সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনেই তারা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলেছেন।

সরেজমিন আমতলী পৌরশহরসহ উপজেলার বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সরকারি নির্দেশনা মেনেই খোলা হয়েছে অধিকাংশ দোকানপাট। সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলছে বিভিন্ন বিপণী বিতান ও মার্কেটগুলোয় বেচাকেনা। রোজার ঈদকে সামনে রেখে কাপড়ের দোকানসহ গার্মেন্টস, কসমেটিক্স, জুতার দোকানে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। ভীর দেখা গেছে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্সের দোকানেও। কোথাও মানা হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব। এছাড়া বিশেষ করে ফুটপাতের দোকানগুলোয় প্রচন্ড-ভিড় থাকায় সেখানেও সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না।

এদিকে ক্রেতাদের মধ্যে করোনা আতঙ্ক থাকলেও থেমে নেই তাদের কেনাকাটা। তারা দলবলে ও পরিবারের লোকজন নিয়ে বিভিন্ন দোকানে ও মার্কেটগুলোতে ভিড় করছেন। এদের মধ্যে শতকরা ৮০% মহিলা ক্রেতা। অনেক ক্রেতা জানান, তারা সব ধরনের স্বাস্থ্য বিধি মেনেই ঈদে সন্তানর ও পরিবারের জন্য নতুন জামা কাপড় কিনতে এসেছেন।

কথাহয় উপজেলার গাজীপুর বন্দর থেকে আমতলী পৌরশহরে মার্কেট করতে আসা গৃহবধূ মোসাঃ নুপুর বেগমের সাথে। তিনি বলেন, ঈদে তার বাচ্ছা ও পরিবারের সকলের জন্য নতুন জামা কাপড় কিতে আমতলী এসেছেন। সামাজিক দূরত্ব মানছেন না কেন যানতে চাইলে উত্তরে বলেন, আল্লাহর রহমতে আমাদের কিছুই হবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, করোনার কারনে দীর্ঘ সময় লকডাউন থাকায় তাদের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। লকডাউনের সময়ও অনেক ব্যবসায়ীকে তাদের দোকান ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ দিতে হয়েছে। এখন ঈদকে সামনে রেখে সরকার দোকান খোলার অনুমতি দিয়েছে। বেচাকেনাও ভাল হলেও ক্রেতাদের সামাজিক দূরত্ব মেনে চলানো তাদের জন্য একটু সমস্যা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে আকন বস্ত্রালয়ের মালিক কামাল আকন বলেন, সামাজিক দূরত্ব মেনে এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার উপকরণ ব্যবহার করে তিনি দোকান পরিচালনা করছেন। দোকানের সকল বিক্রয় প্রতিনিধিরা মুখে মাস্ক পড়ে ক্রেতাদের সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে বার বার অনুরোধ করছেন। এছাড়া সব ধরনের স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিশ্চিত করার জন্য দোকানে বিলিচিং পাউডার মিশ্রিত পানি ছিটানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন মুঠোফোনে বলেন, নাগরিকদের স্বাস্থ্যবিধি মানা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চেতে মাঠে কাজ করছে পুলিশ ও নৌ বাহিনী। এ ছাড়া মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম পরিচালিত হচ্ছে। খুলে দেওয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে সে ব্যাপারে তদারকি করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »