বরাবরের ন্যায় প্রস্তাবিত ২০২০-২০২১ইং অর্থ বাজেটে বিড়ি শিল্পের উপর বৈষম্যমূলক ট্যাক্স বৃদ্ধির প্রতিবাদে ভৈরবে মানববন্ধন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:
প্রস্তাবিত ২০২০-২১ অর্থ বছরের বাজেটে বরাবরের ন্যায় বিড়ি শিল্পের উপর বৈষম্যমূলক ট্যাক্স বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়েছে। ১৪জুন ২০২০ সোমবার বেলা ১১টায় ভৈরবে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ভৈরব উপজেলা বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো: শরিফুল হাসান, সাধারণ সম্পাদক মো: মাসুদ মিয়া প্রমুখ। মানববন্ধনে অর্ধসহ¯্রাধিক বিড়ি শ্রমিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতি প্যাকেট বিড়িতে ট্যাক্স বৃদ্ধি করা হয়েছে ০৪ টাকা। যা শতকরা বৃদ্ধিহার ২৮.৫৭ %। অপরদিকে কমদামী সিগারেটে প্রতি প্যাকেটে দাম বৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ০২ টাকা। যা শতকরা বৃদ্ধির হার মাত্র ৫.৪১ %। অর্থাৎ সিগারেটের চেয়ে বিড়িতে প্যাকেট প্রতি ০২ টাকা বেশি এবং শতকরা ২৩.১৬% বেশি। এটি বিড়ি শিল্পের উপর চরম বৈষম্যমূলক আচরণ। বিদেশী সিগারেট কোম্পানীকে সুবিধা দিতেই এ বৈষম্য করা হয়েছে। যা দেশীয় শিল্পের সাথে বিমাতাসূলভ আচরণ ছাড়া কিছু নয়। দীর্ঘদিন ধরে বিড়ি শিল্প ধ্বংস করার জন্য যে গভীর ষড়যন্ত্র ছিল প্রস্তাবিত বাজেটে তা প্রতিফলিত হয়েছে। সরকার একদিকে মুখে ধূমপান বন্ধের কথা বললেও সিগারেটের বাজার সহজলভ্য করে দিয়েছে। ফলে সরকার ধূমপান মুক্ত করার জন্য যে ঘোষণা দিয়েছে তার পরিবর্তে সিগারেটের ভোক্তা বৃদ্ধি পাবে বৈ কমবে না। বাস্তবে বিদেশী সিগারেট কোম্পানীর সাথে সরকারের অংশিদারত্ব না ছাড়লে আমলাতান্ত্রিক প্ররোচনায় সিগারেটের দাম বৃদ্ধি করা কখনোই সম্ভবপর হবেনা। এছাড়াও মধ্যম স্তরের সিগারেটের দাম বৃদ্ধি করা হয়নি। পাশাপাশি বেশি দামী সিগারেটে সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি না পাওয়ায় কোম্পানীর আয়ের সীমা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সরকার বেশি ট্যাক্স প্রাপ্তি হতে বঞ্চিত হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে বিড়ি শিল্পের উপর যে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে তা এ শিল্পের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। এরফলে বিড়ি ফ্যাক্টরী সংখ্যা কমে যাবে। করোনা পরিস্থিতিতে বেকার হয়ে পড়বে লক্ষ লক্ষ বিড়ি শ্রমিক। যার ফলে শ্রমিকরা করোনায় আক্রান্ত না হয়ে অনহারেই মৃত্যুর দিকে ধাবিত হবে। এছাড়াও নকল বিড়ি বিক্রয় বৃদ্ধি পাবে। সরকার রাজস্ব হারাবে। এমতাবস্থায় আমাদের দাবী সমূহ- ১. বিড়ি শ্রমিকদের মজুরী বৃদ্ধি করতে হবে। ২. বিড়ির উপর ট্যাক্স কমাতে হবে। ৩. কমদামী সিগারেট ও বেশী দামী সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধি করতে হবে। ৪. নকল বিড়ির ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। ৫. ভারতের ন্যায় বিড়ি শিল্পের সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন করতে হবে। ৬. কোনভাবেই করোনা পরিস্থিতিতে ও ভবিষ্যতেও বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরী না করে বিড়ি শিল্পের ক্ষতি করা সমীচিন নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »