ব্ল্যাকমেইল করে একাধিকবার ধর্ষন!অভিযোগ ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা রফিকুল এর বিরুদ্ধে

রিপোর্ট,শামীম আহমেদ :
কিশোরগঞ্জ ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মনিরুজ্জামানের মাধ্যমে ঝরনা বেগম ,পিতা মাহতাব উদ্দিন, মাতা:হেলেনা বেগম,গ্রাম:কালিকাপুর পাে:আগানগর,থানা:ভৈরব,জেলা-কিশােরগঞ্জ গত ২০১৭ ইং সালে ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং বলে মেয়েটি ইন্টারমিডিয়েট পাশ,গরীব,অসহায়।রফিকুল ঝর্নার সরলতার সুযােগ নিয়ে একটি সেলাই মেশিন কিনে দেয়,তার
রেশ ধরে সে ঝর্ণার বাড়ীতে যাতায়াত করত,তার মাকে হাত করার জন্য ঝর্নাকে দামী প্রসাধনী সামগ্রী কিনে দিতো এবং টাকা পয়সার লােভ দেখিয়ে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেতো,এক পর্যায়ে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। সে বলল আমি অবিবাহিত তুমি যদি রাজি থাক তবে তােমাকে বিবাহ করব এমন ফাঁদে ফেলে
আমাকে কু প্রস্তাব দিতো আমি রাজি না থাকলে জোর করে তার কার্যালয়ের পিছনের রুমে নিয়ে গিয়ে আমাকে ধর্ষন করে
এবং আমার অজান্তে তাহার মােবাইলে ছবি,ভিডিও ধারন করে আমাকে ব্ল্যাকমেইল শুরু করে।তার কু প্রস্তাবে রাজি না হলে সামাজিক যােগাযােগ ফেইজবুকে ছেরে দিবে বলে ভয়ভীতি দেখাইতো।

সে আমাকে মোল্লা দিয়ে কালিমা পরে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পরে কাজী দিয়ে রেজিষ্ট্রি করে নিবে বলে আশ্বস্ত করেন।আমরা সিলেটের
একটি অভিজাত আবাসিক “সুপরিম হােটেলে”৩দিন একসাথে ছিলাম।

গত ১০ জুলাই ১৮ ইং সালে ১১লক্ষ ১ টাকা দেনমোহর
ধার্য করিয়া কোর্ট মেরেজ সম্পন্ন করি।
বিয়ের ৩ মাসের মধ্যে আমার পেটে রফিকের বাচ্চা আসে।বাচ্চা নষ্ট করার জন্য সে আমাকে টেবলেট খাওয়া দেয় এবং নিমিষেই আমার বাচ্চা নষ্ট হয়ে যায়।

বাচ্চা নষ্ট করার পর রফিকুল আমার সাথে পল্টি নিল সে বলল আমার সাথে তার কোন সম্পর্ক নাই এবং কোন সময় সম্পর্ক ছিলও না। আমি উপায় অন্তর না দেখে আমার এলাকাবাসীকে বিষয়টি জানাই এলাকাবাসী রফিকুলকে ভূমি অফিসে আটক করে ফেলে । বিষয়টি ভৈরব
ভূমি অফিসে অবগত হয়ে ভৈরব থানা পুলিশের সহযােগীতায় রফিকুলকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারে কার্যালয়ে নিয়ে
আসেন। নির্বাহী অফিসার বিষয়টি অবগত হয়ে বিবাহের সিদ্ধান্ত নিল, পরে সিদ্ধান্ত উল্টে গিয়ে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপুরন
নির্ধারণ করেন এবং আমার নিকট থেকে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়। তখন আমার হিতাহিত জ্ঞান না থাকার
কারনে কোথায় স্বাক্ষর নিল তা জানিনা।একদিন পর জানতে পারলাম আমার এতদিনের ঘরসংসার ও ইজ্জতের মূল্য
নাকি ২ লক্ষ টাকা দিয়ে মিমাংসায় স্বাক্ষর নিয়েছে।

জানতে পারলাম দৈনিক যুগান্তর ৪ ডিসেম্বর ২০ইং সংবাদ ছাপা হয়েছে যাহার হেড লাইন“নারী
কেলেঙ্কারীর ঘটনায় ভৈরবে ভূমি কর্মকর্তাকে বদলি”।এছাড়াও বিভিন্ন অনলাইন পাের্টালে একাধিক নিউজ করা হয়েছে।

৯ ফেব্রুয়ারি ২১ইং জেলা প্রশাসক কিশােরগঞ্জ বরাবর,পুলিশ সুপার
কিশােরগঞ্জ বরাবর, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২১ইং ভৈরব উপজেলা নির্বাহী
অফিসার বরাবর, আবেদন করেছি যা বিচারের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে এক পর্যায়ে ঝর্না আক্তার ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃশাহিন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানার বিরুদ্ধে অভিযোগে বলেন, যে আমি নির্যাতিত হাওয়ার পর মামলা করতে থানায় গেলে ওসি সাহেব প্রথমে মামলা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরেরদিন মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং গালমন্দ ও করেন।একেইসাথে ইউএনওর কাছে এ বিষয়ে একাধিকবার মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার আজো পাইনি এবং তিনিও আমাকে নানাভাবে গালমন্দ করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট একটি প্রতিবেদন প্রেরন করেছি।এর বাইরে তিনি আর কিছু বলতে রাজি হননি।
এছাড়াও ঝর্না বলেন রফিকুল ও তার ১ম স্ত্রী নাজনিন আক্তার সহ গুন্ডা ভাড়া করে
আমাকে জানে মেরে ফেলার জন্য এসিড নিক্ষেপ করে, যা আমি আমার দু হাত দিয়ে প্রতিহত করতে সক্ষম হই । যাহার
ফলে আমার দুহাতে প্রচুর পরিমানে জখম হয়। দীর্ঘ ৪ মাস চিকিৎসার ফলে এখন কিছুটা উন্নতির দিকে তবে আমার
ডান হাতের ৩টি আঙ্গুল নিস্তেজ হয়ে গেছে।
মােবাইল ফোন দিয়ে বর্তমান কার্যালয় ইটনা রাইটুটি ভূমি অফিসের ঠিকানা দেয়। আমি গত ১২ এপ্রিল ২১ইং তার দেয়া
ঠিকানা মােতাবেক যাই । যাওয়ার পর সে বলে আমাকে চিনে না এবং আমার সাথে খারাপ আচরন করে এবং লাঠি দিয়ে মারধর করলে একপর্যায়ে
মাটিতে লুটিয়ে পরে যাই। তারপর এলাকা বাসি ও অফিসের লােক জনের সহযােগীতায় আমি উদ্ধার হই।
এ বিষয়ে ইটনা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে গেলে প্রথমে আমার সাথে ভাল আচরন করেন কিছুক্ষন পর
রফিকুল ও তার প্রথম স্ত্রীর সাথে কথা বলার পর নির্বাহী অফিসারও আমার সাথে খারাপ আচরন করেন।

সর্বশেষ আমি বলতে চাই কর্মহীন প্যারালাইসিস পিতার ২ ভাই বােন প্রতিবন্ধি ঘরের একজন নিরিহ
,সমাজচ্যুত,বাড়ী থেকে বিতারিত সহজ সরল মেয়ে।আমার উপরােক্ত গঠনার সঠিক বিচার আপনাদের মাধ্যমে মহামান্য রাষ্ট্রপতি,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,মাননীয় সংসদ সদস্য
ভৈরব-কুলিয়ারচর সহ দেশ বাসীর নিকট এর সঠিক বিচার দাবি করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »