ভৈরবের মাঠ চষে বেড়ানো নেতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আঃ ছাত্তার

উপ-সম্পাদকীয়:  আর্থিকভাবে অস্বচছল, সংসারে অভাব অনটন, সাংসারিক জীবনে উদাসীনতা, সারাদিন মানুষের দেনদরবার,সমস্যা, সমাজের নানা কাজ,হেটে হেটে দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে কর্মীদের খোঁজ খবর নেওয়া ই ছিল আগের দিনের নেতাদের বৈশিষ্ট্য ও সুস্পষ্ট অবস্থান।
পরোপকারে ব্যস্ত নেতার পকেটে তেমন টাকা পয়সা থাকবে না,কাউকে বোঝাতে দেওয়া যাবে না,অর্থ সম্পদের লোভ আটকাতে পারবে না নেতার নীতি,আদর্শ-এমনই একজন ছিলেন প্রয়াত নেতা আঃ ছাত্তার।
১৯৭৩ সালে ভৈরব হাজী আসমত কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জাসদ (ছাত্রলীগ) থেকে মনোনয়ন পেয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে ভি,পি নির্বাচিত হয়ে ভৈরবের তৎকালীন রাজনীতিতে আলোচনায় চলে আসেন আঃ ছাত্তার।
মাঠে অসম্ভব পরিশ্রমী,সাংগঠনিক,মেধা,আর শ্রম ঘামের সমন্বয়ের ফলে আর পিছনে তাকাতে হয়নি আঃ ছাত্তার কে।
ভৈরবের ছাত্র সমাজের তৎকালীন বেশ প্রশংসিত ও গ্রহন যোগ্য এই ছাত্র নেতা ৭১ এর রনাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ ছাত্তার মাত্র ২৬ বছর বয়সে দায়িত্ব পান,ভৈরব থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকের।
১৯৭৯ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সুদীর্ঘ ২৭ বছর ভৈরবের বিএনপি সাংগঠনিক ভাবে যতটাই ভিত এর উপর দাড়িয়ে তার অধিকাংশ কৃতিত্বের ই দাবীদার আঃ ছাত্তার।
অত্যন্ত সহজ সরল,আর্থি ক অস্বচ্ছল জীবন যাপন কারী এই নেতার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে ছিলেন ভৈরবের সবচেয়ে ভালো একজন সুবক্তা,যার বক্তব্য তৎকালীন সময়ের রাজনৈতিক মহল অধীর আগ্রহ ও মনোযোগ সহকারে শুনতে অভ্যস্ত ছিলেন।
তৎকালীন ছাত্র সমাজ আঃ ছাত্তারের তাক লাগানো বক্তব্যকে অনুসরণ করতেন শ্রদ্ধাভরে।
জীবদ্দশায় উনার দল তিনবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকলেও গড়ে যান নি প্রচুর অর্থ সম্পদ।টাকার লোভ এই নেতাকে দমাতে পারেনি নীতি আদর্শে র রাজনীতি থেকে।ব্যক্তি জীবনের বেশির ভাগ সময় অভাব অনটনেই কাটিয়ে গেছেন সকলের প্রিয় সহজ,সরল,মাঠে পরিশ্রমী এই নেতা।
স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তার তেজদীপ্ত সাহসিকতার ভুমিকার জন্য করাবরন করতে হয়েছে বারবার।শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন একাধিক বার, অাজও নেতা কর্মীরা ও ভৈরবের সর্ব মহল শ্রদ্ধার সাথে আঃ ছাত্তারের আদর্শি ক রাজনীতি কে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
আমার ছাত্র রাজনীতির প্রথম দিক থেকে আঃ ছাত্তার ভাইয়ের সফর সঙ্গী হয়ে প্রত্যক্ষ করেছি,নেতা কর্মীরা ভালবেসে মনের টানে প্রিয় এই নেতার পকেটে জোর করে গুজে দিতেন সিগারেটের প্যাকেট আর কিছু সাংগঠনিক খরচ।
শুভাকাঙ্ক্ষীরা আঃ ছাত্তারের মাধ্যমে ব্যাপক সুবিধা আদায় করে নিলেও নেতার চাহিদা ছিল সর্বোচ্চ একটি পাঞ্জাবি।নতুন নতুন পাঞ্জাবির অসম্ভব নেশা ছিল প্রিয় গরিব এই নেতার।বর্তমান চলমান টাকা পয়সার রাজনীতির দুঃসময়ে আঃ ছাত্তারের মত দেশপ্রেমিক, সৎ নির্লোভ রাজনীতিকের দেখা মেলাভার।
২০০৬ সালে শেষ দিকে দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান আদর্শি ক এই নির্লোভ নেতা।
আজ ৩০শে মে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৯তম শাহাদাত বার্ষিকীতে শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করছি ভৈরবের রাজনীতিতে সর্বোচ্চ ত্যাগী,নির্লোভ পরিশ্রমী নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ ছাত্তার ভাইকে
আল্লাহ উনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।
দেশপ্রমিক, সর্বমহলে গ্রহন যোগ্য এই নেতার নীতি আদর্শ বেঁচে থাকুক আজীবন
নিবেদক: আনিসুর রহমান কাপন
শহীদ জিয়ার আদর্শে র সৈনিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »