ভৈরবের মানিকদীতে জমি সংক্রান্ত্র বিরোধের জেরধরে দু’পক্ষের মহিলাসহ ৮জন আহত ॥ থানায় মামলা দায়ের

শামীম আহমেদ :
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী পুরানগাও গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরধরে উভয় পক্ষের মহিলাসহ ৮জন আহত।
গত ১২ ডিসেম্বর শনিবার আনুমানিক ১২টায় মজলু মিয়া সাথে জলফু মিয়ার জমি বিরোধের জেরধরে কথাকাটির এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মাঝে মারামারি সংগঠিত হয়।
এব্যাপারে মজলু মিয়া বলেন, আমার জমির মানিকদী মৌজার দাগ নং ৪৫০৫ এর ৭২ শতাংশ ভূমি দীর্ঘদিন যাবত দখলকার অবস্থায় নিয়ত আছি। কিন্তু প্রতি পক্ষের জলফু মিয়াসহ তার লোকজন দীর্ঘদিন যাবত আমার উত্তারিধকার সূত্রে প্রাপ্ত উক্ত ভূমি কোন প্রকার দলিলপত্রাদি ছাড়াই বংশীয় প্রভাব প্রতিপত্তির বল খাটিয়ে জোরপূর্বক দখলের পায়তার করিয়া আসিয়াছে এবং বিভিন্ন সময় উক্ত জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়া আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের খুন জখম ও মারধরের হুমকি প্রদর্শন করিয়া আসিতেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১২ডিসেম্বর বেলা ১২.০০ ঘটিকার সময় আমার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণের কাজ শুরু করিলে জলফু মিয়ার নেতৃত্বে অপারাপর সকল লোকজন যোগসাজোশ করিয়া, ধারালে দা, রাম দা, বল্লম, চাইনিজ কুড়াল ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র সুসজ্জিত হয়ে আমার ঘর নির্মাণ কাজে বাধা দিতে আসিলে আমি মোশারফ কে নিয়ে উক্ত বাধার প্রতিবাদ করা মাত্রই । জলফু মিয়া অকথ্য ভাষায় গালাগালি শুরু করে এবং তার সাথে থাকা অন্যান্য লোকজনকে হুকুম দিয়ে বলে “আজকে শালার বেটা কে জানে মারিয়া ফেল”। উক্ত হুকুম পাইয়া শামীম তার হাতে থাকা কাঠের লাঠি দিয়া আমাকে বাইরাইয়া নীলাফোলা জখম করে। আমার স্ত্রীকে আমি রক্ষা করিতে গেলে কালা মিয়া তার হাতে থাকা ধারালে দা দিয়ে আমার পক্ষের মোশারফ কে হত্যার উদ্দেশে কুপ মারিলে উক্ত কুপ জখমী মোশারফের বাম হাতে লাগিয়া মারাত্মক কাটযুক্ত রক্তাক্ত জখম হয়। জখমী মোশারফকে রক্ষা করিতে আবু তাহের আগাইয়া গেলে মোশারফ তার হাতে থাকা বল্লম দিয়ে জখমী আবু তাহেরকে হত্যার উদ্দেশ্যে বুক লক্ষ্য করিয়া আঘাত করিলে উক্ত আঘাতে জখমী আবুতাহের এর বুকের বাম পাশ্বে ছিদ্রযুক্ত কাটা রক্তারক্ত মারাত্মক জখম হয়। জখমী আবু তাহের কে রক্ষার জন্য নাজমুল আগাইয়া আসিলে প্রথমে মিজান তার হাতে থাকা বল্লম দ্বারা জখমী নাজমুল কে খুন করার উদ্দেশ্যে তার বুকের ডানপার্শ্ব লক্ষ্য করিয়া আঘাত করিয়া ছিদ্রযুক্ত কাটা জখম করে তার হাতে বল্লম দ্বারা বুক লক্ষ্য করিয়া আঘাত করিলে জখমী নাজমুল কিছুটা সরিয়া গেলে উক্ত আঘাত তার ডান হাতের বাহুতে লাগিয়া রক্তাক্ত কাটাযুক্ত জখম হয়। জখমী নাজমুল কে রক্ষা ওবায়দুল্লাহ আগাইয়া আসিলে জামাল মিয়া তার হাতে থাকা ধারালো বল্লম দ্বারা খুন করার উদ্দেশ্যে ওবায়দুল্লাহ কে বুক লক্ষ্য করিয়া আঘাত করিলে ওবায়দুল্লাহ হাত দ্বারা ফিরাইতে গেলে উক্ত আঘাত তার বা হাতের বাহুতে লাগিয়া মারাত্মক কাটাযুক্ত রক্তাক্ত জখম হয়। জখমী ওবায়দুল্লাহকে রক্ষার জন রইছ উদ্দিন আগাইয়া আসিলে রাসেল মিয়া তার হাতে থাকা লোহার রড দ্বারা জখমী রইছ উদ্দিন কে হত্যা উদ্দেশ্যে তার মাথা লক্ষ্য করিয়া আঘাত করিলে রইছ উদ্দিন কিছুটা সরিয়া যাওয়ায় আঘাত তার চোখের নিচে লাগিয়া মারত্মক কাটাযুক্ত রক্তাক্ত জখম হয়। পরে পারভীন আমার স্ত্রীর চুলের মুঠি ধরিয়া মাটিতে ফেলিয়া টানাহেচড়া করিয়া দেয় কাকন মিয়া আমার স্ত্রীকে এলোপাথারি কিলঘুষি মারিয়া আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম করে এরশাদ ওরফে ছোট্ট মিয়া আমার স্ত্রীকে বিবস্ত্র করতঃ শ্লীলতাহনি করার চেষ্টা করে । মারপিটের একপর্যায়ে জলফু মিয়া বাড়িতে খবর দিলে তার লেঅকজন বাড়ি থেকে কাঠের লাঠি ও হকিষ্টিক নিয়া আসিয়া আমাদের বাইরাইয়া ও এলোপাতারিভাবে কিলঘুষি লাথি মারিয়া নীলাফোলা জখম করে। পরে আমার ও জখমীদের ডাকচিৎকার শুনিয়া আশেপাশের লোকজন আগাইয়া আসিলে আমাদের প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করিয়া ঘটনাস্থল থেকে চলিয়া যায় পরে আমার পক্ষের লোকজনদের গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করিয়া ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়া চিকিৎসার ব্যবস্থা করি এবং বর্তমানে উক্ত হাসপাতলে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বর্তমানে প্রদিপক্ষ জলফু মিয়ার প্রাণ নাশের হুমকির ভয়ে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়িতে শান্তিতে বসবাস করিতে পারিতেছি না আমার সন্দেহ হইতেছে তারা যেকোন সময় আমার বড় রকমের ক্ষতি সাধন করিতে পারে। তাই উক্ত বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন এর জন্য আমি গতকাল ১৩ ডিসেম্বর রাতে আমার স্ত্রী রেজিয়া বেগম বাদী হয়ে ভৈরব থানায় মামলা করার উদ্দেশ্যে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।
এব্যাপারে জলফু মিয়ার পক্ষের এরশাদ ওরফে ছোট্র মিয়া বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মজলু মিয়ার লোকজন আমাকেসহ আমারদের পক্ষের ৩জন কে গুরুতর আহত করে পরে আমাদের উদ্ধার করে স্থানীয়রা ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। উক্ত ঘটনায় আমাদের পক্ষের মোবারক হোসেন বাদী হয়ে প্রতিপক্ষের মজলু সহ ৯জনের নাম উল্লেখ্য করে গতকাল ১৩ ডিসেম্বর ভৈরব থানায় একটি মামলা দায়ের হয়।
উক্ত ঘটনায়, ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহিন বলেন, উক্ত ঘটনায় মোবারক হোসেন বাদী হয়ে প্রতি পক্ষ মজলুসহ ৯জন আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-১৭। তাছাড়া উপর পক্ষের মজলু মিয়ার স্ত্রী রেজিয়া বেগম বাদী হয়ে মামলা করার উদ্দেশ্যে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। উক্ত অভিযোগের তদন্ত সাপেক্ষ মামলা দায়ের এর পক্রিয়া চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »