ভৈরবে আনোয়ারা জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান মো.আসাদ মিয়ার বিরুদ্ধে রক্ত নিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগ

শামীম আহমেদ:
কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব পৌর শহরের বঙ্গবন্ধু সারণিতে অবস্থিত ভৈরবের ঐতিহ্যবাহী আনোয়ারা জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান মো.আসাদ মিয়ার বিরুদ্ধে রক্ত নিয়ে রোগীর সাথে বাণিজ্য করার অভিযোগ উঠেছে।
২২আগস্ট শনিবার জেলার কুলিয়ারচর উপজেলা থেকে পিত্তথলিতে পাথর জনিত কারণে অপারেশন করার জন্য (কুলিয়ারচর ব্লাডডোনার পরিবার) এর এক সদস্যের স্বজন কে ভর্তি করা হয় উক্ত হাসপাতালে।
হাসপাতালটির মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান মো.আসাদ মিয়া তাদের কে জানান অপারেশন করার জন্য বিকেল ৫ টার মধ্যে জরুরী বি নেগেটিভ (B-) রক্ত যোগার করে আনতে। যদি এই সময়ের মধ্যে রক্ত যোগার করতে না পারে তাহলে রক্ত দিবে হাসপাতাল থেকে। যার জন্য প্রথমে ১ হাজার টাকা এবং রক্ত দেওয়ার পর ৪ হাজার টাকা দিতে হবে বলা হয়েছে রোগীর স্বজনদেরকে।
রোগীর স্বজন কুলিয়ারচর ব্লাডডোনার পরিবারের একজন নিয়মিত রক্তদাতা। সে ভৈরবে রক্তের প্রয়োজনে ব্লাড ফর ভৈরব এর প্রতিষ্ঠাতা কাইসার হৃদয় এর সাথে রক্তের জন্য যোগাযোগ করেন এবং উক্ত বিষয়টি বলে। পরে ব্লাড ফর ভৈরব এর প্রতিষ্ঠাতা কাইসার হৃদয় বিষয়টি জানার জন্য মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান এর সাথে ফোন কলে যোগাযোগ করলে তিনি একই কথা বলেন যে আমরা রক্ত দিলে ৫ হাজার টাকা দিতে হবে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান মো.আসাদ মিয়ার কাছ থেকে সরাসরি জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, অনেক সময় বিভিন্ন কারনে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর জন্য রক্তের প্রয়োজন পড়ে। রোগীর স্বজনরা রক্ত জোগাড় করতে ব্যর্থ হলে আমরা বাইরে থেকে রক্ত কিনে এনে দেওয়ার জন্য টাকা নিয়ে থাকি ও ভৈরবের বিভিন্ন রক্তদাতা সংগঠন এর শরণাপন্ন হয়ে রক্ত জোগাড় করে দেই। এবং রক্তদাতার জন্য কিছু পরিমান টাকা নিয়ে থাকি।

এ বিষয়ে হাসপাতালের মার্কেটিং ম্যানেজার মো. রিপন মিয়ার সাথে কথা বললে, তিনি জানান অনেক সময় রক্ত না পাওয়া গেলে রক্ত কিনে আনতে হয়। তার কাছে জানতে চাওয়া হয় ভৈরবের সকল সেচ্ছায় রক্তদাতা সংগঠন গুলোর কাছে রক্তের জন্য শরণাপন্ন হলে কখনো নিরাশ হয়েছেন কিনা বা রক্তের জন্য তাদের কে কোনো ধরণের টাকা পয়সা দিতে হয়েছে কি না? তিনি উত্তরে বলেন, সংগঠনের সদস্যরা সব সময়ই সেচ্ছায় এসে রক্ত দিয়ে যান টাকা লেনদেনের তো কোনো প্রশ্নই উঠেনা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্বেচ্ছায় রক্তদাতা অভিযোগ করে বলেন, আমি বিগত দিনে নিজের পকেটের টাকায় গাড়ি ভাড়া দিয়ে এসে সেচ্ছায় এই হাসপাতলে তিনবার রক্ত দান করেছি। পরে জানতে পারি আমার দেওয়া রক্তের জন্য রোগীর স্বজনদের হাসপাতালকে টাকা দিতে হয়েছে। যার কারনে আমি আর অপরিচিত কাউকে রক্তদান করি না।

অন্যদিকে ভৈরবে স্বেচ্ছায় রক্তদাতা সংগঠন গুলোর সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানায়, চলতি মাসে ভৈরবের বিভিন্ন হাসপাতালে আনুমানিক ১৬০ ব্যগ রক্ত দান করেছি। যা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে। এমনকি সদস্যদের যাতায়াত ভাড়া সংগঠন বহণ করেছে।

উক্ত বিষয়ে রক্ত সৈনিক ফাউন্ডেশন ভৈরব এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রক্ত সৈনিক শামসুল হক বাদল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা মানবতার কল্যাণে স্বার্থহীন ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের সেচ্ছায় দানকৃত রক্ত নিয়ে বাণিজ্যের বিষয়টি যন্ত্রণাদায়ক।

তারা আরো বলেন, আমরা সেবক মাত্র। ভৈরব এর মধ্যে যত প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতাল আছে রক্তের প্রয়োজন অবশ্যই আছে আর আমাদের স্বেচ্ছাসেবী রক্ত দাতা সংগঠন গুলো আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ যে কাজটি সেটি আমরা অনেকাংশে করে থাকি। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কোন আপত্তি থাকলে আমাদের প্রমাণ সহ বলতে পারেন। স্বেচ্ছাসেবী রক্ত দাতা সংগঠন গুলোর কোন আপত্তি থাকবেনা।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. বুলবুল আহমেদ এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, ভৈরবে কোনো হাসপাতালে রক্ত নিয়ে বাণিজ্য করার বিষয়ে আমার কাছে এখনো পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ব্লাড ফর ভৈরব এর সদস্যদের নিকট জানাযায় উক্ত ঘটনায় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর বিষয়টি ভৈরব উপজেলা নির্বাহী অফিসার লুবনা ফারজানার বিষয়টির উপর গুরুত্ব দিয়ে ব্লাব ফর ভৈরব সহ ভৈরব প্রায় ৫/৬টি সেচ্ছায় রক্তদাতা সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে আগামীকাল ২৪ আগস্ট বেলা ১১টায় জরুরী সভা করে উক্ত বিষয়ের উপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন বলে আস্বাস প্রদান করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »