ভৈরবে ইলিশ শিকারের দায়ে পাঁচ জেলেকে এক বছর করে জেল

শামীম আহমেদ:
কিশোরগঞ্জের ভৈরবের মেঘনা নদীতে চলমান সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ মাছ শিকার করার দায়ে ৭ জেলেকে আটকের পর পাঁচজনকে এক বছর করে সাজা দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত। অপর দুইজনকে করেছেন পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা।

আজ শুক্রবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লুবনা ফারজানা পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালত আটক জেলেদের এই দন্ড প্রদান করেন।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. লতিফুর রহমান জানান, গতকাল সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত নৌ পুলিশের সহযোগিতায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লুবনা ফারজানার নেতৃত্বে উপজেলার মৌটুপি, লুন্দিয়া, খলাপাড়া, শ্যামপুর ইত্যাদি এলাকায় অভিযান চালায় মৎস্য বিভাগ।
অভিযানে নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ শিকার ও কারেন্টজাল ব্যবহার করে মাছ ধরার অপরাধে ৭ জেলেকে আটক এবং নদীতে মাছ শিকাররত অবস্থায় এক লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্টজালসহ উদ্ধার করা হয়।

পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লুবনা ফারজানা পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালত আটক জেলে আবু বাক্কার, বাক্কী মিয়া, ফরিদ মিয়া, ছাত্তার মিয়া, রমজান মিয়া ও কাউছার মিয়াকে এক বছর করে কারাদন্ড এবং আতাউর রহমান ও সামসু মিয়া নামের অপর দুই জেলের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন।

উদ্ধার করা এক লাখ মিটার কারেন্টজাল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা সাংবাদিকদের জানান, ইলিশের প্রজনন বৃদ্ধির ল্েয ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলমান এই নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ শিকার ও নিষিদ্ধ কারেন্টজাল ব্যবহার করার অপরাধে এইসব জেলেদের আটকের পর মৎস্য সম্পদ সংরণ আইনের ১৯৫০ সালের আইনে তাদের এইসব শাস্তি প্রদান করা হয়।

সরকার ঘোষিত নিষিদ্ধ সময় আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকাসহ নিষিদ্ধ কারেন্টজাল ব্যবহার করে মাছ শিকার বন্ধে সারা বছর আমাদের কার্যক্রম চলমান থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »