ভৈরবে ঈদ বাজারে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি, সংক্রমণ বৃদ্ধির ঝুঁকিতে নগরবাসী!

স্টাফ রিপোর্টার : সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শপিংমলসহ অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা দেওয়া হয়েছে। আজ (১০ মে) রবিবার সাপ্তাহিক বন্ধের দিন হলেও দীর্ঘদিন পর দোকান খোলার অনুমতি পেয়ে করোনা ভয়কে উপেক্ষা করে জীবিকার তাগিদে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলেছেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি ঈদকে সামনে রেখে বাজারে ক্রেতাদের ভীর ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে দোকানপাট খোলা রাখার ক্ষেত্রে যেসব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা ছিল সেসব পালনে বালাই নেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের।সব ধরনের দোকানপাটের সামনে হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ সচেতনতাবৃদ্ধি মূলক ব্যানার টানানোর কথা থাকলেও হাতে গুনা কয়েকটি দোকানের সামনে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করা হলেও বেশির ভাগ ব্যবসায়ীরা অসচেতন রয়ে গেছেন। এছাড়াও বাজারে অনেককে মাস্ক ছাড়াও ঘুরাঘুরি করতে দেখা গেছে। এদিকে মাস্ক ব্যবহার না করায় ৬জনকে নগদ ১২শ টাকা জরিমানা করেছেন উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। রবিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ভৈরব বাজার মনিটরিং করতে গিয়ে এ অর্থদন্ড প্রদান করেন নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেট ভৈরব উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা।

 

করোনা পরিস্থিতিতে ভৈরব বাজারে সামাজিক দূরত্ব না মেনে আশপাশের বিভিন্ন জেলা উপজেলার মানুষজন ভীর জমিয়েছেন। সকাল ১০টায় দোকান খোলার কথা থাকলেও নয়টা থেকেই বাজারে জমতে শুরু করেছেন শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরষ। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা থাকলেও গায়ে গা লাগিয়েই কেনাকাটা করতে দেখা গেছে ক্রেতাদের। তবে ভৈরব পৌর নিউ মার্কেটে প্রবেশমুখে মাস্ক ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। এছাড়াও পৌর নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের হাতে গ্লাভস পড়তে দেখা গেলেও বাজারের অন্যান্য কাপড় বিক্রির দোকানীদের কাউকে গ্লাভস পরিধান করতে দেখা যায়নি। এছাড়াও ছবিঘর শপিং কমপ্লেক্সসহ অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশপথে কোনো ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ব্যবস্থা বা আগত ক্রেতাদের মাঝে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণে বিক্রেতাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে করোনা সংক্রমণ ভয়বহ ভাবে বাড়তে পারে বলা আশংকা করছেন সচেতন মহলের বাসিন্দারা।

 

এবিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ভৈরবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সীমিত আকারে খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে নির্ধারণ করে দেয়া সময়সূচী মেনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে হবে। ইতোমধ্যে মাস্ক না পড়ায় ৬জনকে জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত বিকেল চারটার মধ্যে বাজারের সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও বাজারে প্রবেশ পথে হাত ধোয়ার জায়গা নির্ধারন করা হয়েছে। এছাড়াও সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসনের বাজার মনিটরিং অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »