ভৈরবে করোনায় আক্রান্ত আওয়ামী লীগ নেতা ও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সাবেক সভাপতি সোনা মিয়ার মৃত্যু

শামীম আহমেদ:
কিশোরগঞ্জ জেলার বন্দরনগরী ভৈরবে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে। তিনি পৌর শহরের ৯নং ওয়ার্ড আয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়াও তিনি প্রায় এক যুগ ধরে একই ওয়ার্ডে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার নাম শহিদুল হক সোনা মিয়া মাষ্টার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৬৫ বছর। তিনি পৌর এলাকার চণ্ডিবের গ্রামের উত্তরপাড়া মহল্লার বাসিন্দা ছিলেন।
জানাগেছে, গেল এক সপ্তাহে আগে করোনার উপসর্গ নিয়ে শহিদুল হক সোনা মিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। পরে তার দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হলে করোনা পজেটিভ আসে। ফলে তাকে কিশোরগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। পরে রাত একটার দিকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী টিম তার মৃৃতদেহ দাফন সম্পন্ন করেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বুলবুুুল আহম্মদ মুঠোফোনে জানান, করোনায় আক্রান্ত হয়ে শহিদুল হক সোনা মিয়ার মৃত্যু হয়েছে। ফলে উপজেলায় মৃৃতের সংখ্যা বেড়ে এখন ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। আর এ পর্যন্ত করোনার উপসর্গ নিয়ে প্রায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে মাত্র একজন ব্যতীত সবার বয়স ৫০ বছরের উপড়ে। তারা বেশ কয়েক দিন ধরেই করোনার উপর্সগসহ প্রচণ্ড জ্বরে ভোগছিলেন। তাছাড়া মৃত ব্যক্তিদের সবার বাড়ি পৌর শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায়।
তিনি আরও জানান, গেল ৪ দিনের রিপোর্টে নতুন করে আরও ২২ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে ৬ জন আগের এবং নতুন করে ১৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে এ নিয়ে উপজেলায় মোট ৪৮৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আর সুুস্থ হয়েছেন মোট ২০৮ জন। এছাড়াও গেল ১৯, ২০ ও ২২ জুনের রিপোর্ট পেন্ডিং রয়েছে।
এদিকে স্বাস্থ্য বিধি না মেনে ভৈরব বাজারসহ শহরের অলি-গলিতে মানুষজন অবাধে ঘুরা ফেরা করছে। এমন কি মানছে না সামাজিক দুরত্ব। আবার কেউ কেউ মুখে মাস্ক পর্যন্ত পড়ছে না। ফলে প্রাণঘাতি করোনার সংক্রমণ নিয়ে চারদিকে আতঙ্ক বিরাজ করছে। যদিও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে নানা অঙ্কের আর্থিক জরিমানা করছে উপজেলা প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »