ভৈরবে গ্রামীণ জেনারেল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ স্বজনদের

শামীম আহমেদ :
ভৈরবে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু অভিযোগ স্বজনদের। কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর শহরের কমলপুর নিউ টাউনস্থ রোডে অবস্থিত গ্রামীণ জেনারেল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ স্বজনদের। নিহত রোগী বি-বাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার ওরাইল গ্রামের মোঃ কাউছার মিয়ার স্ত্রী মোছাঃ খাদিজা বেগম (২২)। হাসপাতাল থেকে বলা হয়েছিলো তাদের রুগীকে অস্ত্রপাচারহীন ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে অপারেশন করবে ঢাকা থেকে আগত অভিজ্ঞ চিকিৎসক। তবে তার অপারেশন টি তরিগরী করে স্থানীয় মাতৃকা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক প্রফেসর ডাক্তার মোঃ মাসদুর রহমান কে দিয়ে করানো হয়। রোগীর স্বামী কাউছার মিয়া অভিযোগ করে বলেন, অস্ত্রপাচারহীন ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে অপারেশন করলে কোনো রক্ত লাগে না তবে ওটি চলাকালীন সময় হটাৎ আমাকে জরুরী ৫ ব্যাগ রক্ত এনে দিতে বললে আমি ২ ব্যাগ রক্ত যোগার করে দেয়। বাকী ৩ ব্যাগ রক্ত যোগার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম, কিন্তু ২ ব্যাগ রক্ত দেওয়ার পর আমাদের কে আর রক্ত যোগার করার জন্য কিছু বলেন নাই। দীর্ঘ সময় পর আমাকে জানায় আমার স্ত্রী আর বেঁচে নেই। এই সংবাদ শুনে আমরা হতস্তব্ধ হয়ে যাই। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে না জানিয়ে এম্ভুলেন্স এনে তরিগরী করে নিহত খাদিজা (২২) কে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়। এব্যাপারে নিহত খাদিজার শুশুর মরফত আলী অভিযোগ করেন বলেন, আমার নিহত পুত্রবধুকে হাসপাতাল থেকে বের করেদিয়ে রফাদফার মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন হাসপাতালের লোকেরা এব্যাপারে উক্ত হাসপাতালে কর্মরত সরকারী চিকিৎসক ডাঃ ফাহিমা শারমিন হানি বলেন, সিস্টিক আল্টারী এনরিজম এটা হচ্ছে আল্টাসনোগ্রাফি যা একমাত্র বাংলাদেশের সর্বউচ্চ হাসপাতাল গুলো ইউনাইটেড,এ্যাপোলো,ল্যাবএইড এ হয়ে থাকে এবং রোগীর পরিস্থিতি কালার ডবলার দিয়ে দেখতে হবে আর নইলে নরমাললি এটা বুজাযাবেনা। স্যার যখন এটি ওপেন করছে সেখানে সিস্টিকডা এবং সিস্টিক আলটারিটা এপ্রোমিনাল অ্যায়ার্ড এর সাথে মিলে গেছে। এটা সাধারনত নরমাল আল্টাসনোগ্রাফি দিয়ে বুজা যাবেনা। স্যার যখন সিস্টিক আল্টারী এনরিজম ছুটাতে যায় তখন রোগীর ব্লেডিং শুরু হয়,যারফলে রোগীর শরীর থেকে দ্রুত সময়ে অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরন হয়ে রোগী মারা যায়। তিনি আরো বলেন, স্যার সিস্টিক আল্টারী এনরিজম না জেনেই রোগীর চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি দাবী করেন বলেন আমরা অভিজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে অপারেশন করিয়েছিলাম। তিনি নিজেকে একজন সরাকারী ক্যাডার পরিচয় দেন। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানাযায়, ডাঃ ফাহিমা শারমিন হানি সরকারী ক্যাডার চিকিৎসক হওয়া সত্বেও উক্ত হাসপাতালের মালিকানা পার্টনারশিপ রয়েছেন বলে জানা যায়। এব্যাপারে তার কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি তা অশিকার করেন এই ঘটনার পর ডাক্তার, নার্স, ম্যানেজার ও কর্মচারীরা পালিয়ে যাওয়াই তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে হাসপাতালের উপদেষ্টা তোফাজ্জল হক জানান, অপারেশনে রোগী মারা যেতেই পারে। অপারেশনের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রোগী মারা গেছে যা ডাক্তার বলেছে। এটা একটি দুর্ঘটনা। রোগীর অভিভাবকের সাথে সমঝোতা করার চেষ্টা করছি বলে তিনি জানান। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বুলবুল আহমেদ জানান, ঘটনার খবর পেলেও আমি এখনো কোনো অভিযোগ পায়নি। গ্রামীণ জেনারেল হাসপাতাল পরিচালনার আবেদন করলেও তাদেরকে এখনো অনুমোদন দেয়া হয়নি। গত তিনদিন আগে সিভিল সার্জনের একটি টিম এই হাসপাতালে পরিদর্শনে গিয়েছিল। সেদিন হাসপাতালে অনেক অনিয়ম পাওয়া গেছে এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি দেখাতে পারেনি তারা। ডাক্তার কীভাবে, কেমন করে অপারেশন করেছে তা আমি জানি না। অভিযোগ পেলে ঘটনা তদন্ত করা হবে বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »