ভৈরবে নাপিতের টাকা বিতরণে অনিয়ম-জনপ্রতিনিধিসহ অফিসের লোকজনের প্রতি ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

শামীম আহমেদ:
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে উপজেলা সমাজ সেবা অফিস থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠির নাপিত বা শীল সম্প্রদায়ের জীবন মান উন্নয়নের জন্য সরকারের দেয়া জনপ্রতি ১৮ হাজার করে শীল বা নাপিতের টাকা পেলেন জেলে। শুধু তাই নয়, কেউ রাজ মিস্ত্রী,কেউবা কাঠমিস্ত্রী আবার কেউ বাদাম বিক্রেতা আবার কেউবা আছেন প্রবাসে। তারাও পেলেন এসব টাকা। অথচ, প্রকৃত পক্ষে যেসব নাপিতের নাম থাকার কথা তালিকায় তাদেরই নাম নেই। ফলে তালিকা তৈরি নিয়ে দেখা দিয়েছে অসন্তুষ। এমন ঘটনায় জনপ্রতিনিধিসহ অফিসের লোকজনের প্রতি ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
খোজঁ নিয়ে জানাগেছে, উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের নাপিতের তালিকায় নুরুল ইসলাম নামে এক সাবেক ইউপি সদস্য এবং তার ছেলেসহ একই দোকানের একাধিক নাপিত। অথচ, ছেলে নাপিতের কাজ করলেও বাবা নুরুল ইসলাম পেশায় আছেন ফলের ব্যবসায় ।
এবিষয়ে গজারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান গোলাপ সারোয়ার বলেন, আমি এই তালিকা সম্পর্কে কিছুই জানি না। এই তালিকা থেকে গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী এলাকার লোক জনের নামও বাদ পড়েছে।
এছাড়াও শিমুলকান্দি ইউনিয়নের আরেক নারী ইউপি সদ্যেস্যের ছেলে এবং তার মেয়ের জামাতার নাম রয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সরকারে এই সুবিধা যারা পাবার কথা, তালিকায় তাদেরই নাম নেই। এদেরই একজন তুলাকান্দি গ্রামের মোহাম্মদ আলী। মাজারের কাছে ৯ বছর ধরে নাপিতের কাজ করছেন। তার সেলুনে বা দোকানে নেই কোন ভাল একটি চেয়ার। সামান্য মাত্র এক টুকরা গ্লাসের সামনে লোকজনকে বসিয়ে কাজ করছেন তিনি। ফলে সেলুনের পরিবেশটাও নাজুক। ফলে মোহাম্মদ আলীর সেলুনে কাস্টমারের সংখ্যাও কম। অন্যদিকে তালিকায় যাদের নাম রয়েছে, তাদের সেলুনগুলোর তিন দিকই থাই এলুমিনিয়ামের ফ্রেমে তৈরি গ্লাসে পরিপূর্ণ। এক কথায় তারা সাবলম্বী। শুধু তাই নয়, তালিকায় নাম রয়েছে জেলের, রাজ মিস্ত্রীর, কাঠমিস্ত্রীর এবং বাদাম বিক্রেতারও।
খোজ নিয়ে আরও জানাযায় শিমুলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা অত্র ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক দিদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ । সে ৫/৬ জন নাপিতের টাকা নিয়ে করেছে প্রতারণা । নাপিতের ১৮ হাজার টাকার মধ্যে তাদেরকে নামে মাত্র টাকা দিয়ে বাকি টাকা সে আত্মসাত করেছে এবং তাদেরকে (নাপিতদেরকে) বলে দিয়েছে কাউকে কিছু বললে তারা আর টাকা পাবেনা তাদের নাম কাটা যাবে । এছাড়া অভিযোগ রয়েছে ইউপি সদস্য মো.ইউনুছের বিরুদ্ধেও ।
এ বিষয়ে দিদার ও ইউনুছ বলেন ,কথাগুলো সত্য নয় । এগুলো মিথ্যা বানোয়াট আমরা ষড়যন্ত্রের শিকার । আর শিমুলকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান যোবায়ের আলম দানিছ বলেন আমি বিষয়গুলো তদন্ত করব। তদন্তে সত্যতা সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একই চিত্র উপজেলার সাদেকপুর ও আগানগরসহ একাধিক ইউনিয়নের। এছাড়াও এসব টাকা বিতরণে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে হাজার হাজার টাকা। আগানগর ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর ও মুছার বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। জাহাঙ্গীর তার ছেলেকে দিয়ে ৫ জন নাপিতের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছে। আর মুছা মিয়া যারা নাপিতের সাথে সম্পৃক্ত নাই তারা তার আত্মীয় তাদেরকে এই অনুদান দিয়েছে। এছাড়া প্রবাসে থাকে এমন ব্যক্তিও রয়েছে।
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর বলেন,আমি অসুস্থ্য তাছাড়া এ অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা। আর মুছা মিয়ার মুঠোফোনে ফোন দিলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এইসব ঘটনা জানাজানির পর তালিকা তৈরিতে জড়িত জনপ্রতিনিধিসহ অফিসের লোকজনের প্রতি ক্ষোভে ফুসে ওঠে এলাকাবাসী। উপজেলা সামজ সেবা কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, জনপ্রতি ১৮ হাজার টাকার করে বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলার ৩‘শ জন নাপিতের মাঝে তাদের জীবন মান উন্নয়নে সরকারের ৫৪ লক্ষ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা সামজ সেবা কর্মকর্তা রিফফাত জাহান ত্রপা জানান, তালিকা তৈরিতে অনিয়ম এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠির এসব টাকা বিতরণে কোন অনিয়ম হলে কিংবা অফিসের কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অভিযোগ ও অনিয়ম প্রসঙ্গে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »