ভৈরবে নিহতের জের ধরে প্রতিপক্ষের বাড়ি-ঘর ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট প্রায় ১কোটি ৭২ লক্ষ টাকার উপরে ক্ষয়ক্ষতি

বিশেষ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নিহতের জের ধরে প্রতিপক্ষের বাড়ি-ঘর ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট। উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের কান্দিপাড়া গ্রামে এই ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। এতে প্রায় ১কোটি ৭২ লক্ষ টাকার উপরে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবী ক্ষতিগ্রস্থদের।

স্থানীয়রা জানায়, শনিবার (১ আগস্ট) ঈদুল আজহার দিন বিকেলে জান মাহমুদের বাড়ির হোসেন মিয়ার সাথে কুরবানির মাংস (প্রতিবেশীদের মাঝে বিতরণের মাল্লত) নিয়ে একই গ্রামের বাওরার বাড়ীর মজনু মিয়ার সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের লোকজন জন আহত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে লাঠির আঘাতে শাহ আলম গুরুতর আহত হন। তাঁকে প্রথমে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোরে শাহ আলমের মৃত্যু হয়। শাহ আলমের স্ত্রী শেফালি বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘ছাত্তার মিয়ার পক্ষের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো নেই। সুযোগ পেলেই ওই পক্ষের লোকজন আমাদের ওপর নির্যাতন চালায়। ছাত্তার পক্ষের লোকজনের লাঠির আঘাতে আমার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে।’ তবে ছাত্তার মিয়া দাবি করেন, ‘শাহ আলমের বংশের লোকজন প্রথমে আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমরা কেবল প্রতিরোধ করার চেষ্টা করি। শাহ আলম মূলত নিজেদের পক্ষের লোকজনের লাঠির আঘাতে আহত হয়ে পরবর্তীতে মারা যান।’ এব্যাপারে ছাত্তার মিয়ার পক্ষের সোহেল মিয়ার স্ত্রী ইসমত আরা বলেন, শাহ আলমের মৃত্যুর সংবাদ শুনে শাহ আলম এর বাড়ির মৃত লায়েছ মিয়ার ছেলে মোবারক আমাকে শ্লীলনতা হানির উদ্দেশ্যে আমার কাপর টেনে ধরে। এছাড়াও নিহত শাহ আলমের বাড়ির মোঃ হোসেন এর নেতৃত্বে ৭০/৮০জন পূর্ব শত্রæতার আক্রোসে ঘটনার দিন ও সময়ে পরস্পর যোগযোগ ও ষড়যন্ত্রক্রমে বেআইনি জনতা বদ্ধে আবদ্ধ হয়ে রাম দা,লাঠি,সাবল,লোহার রড,হাতুড়ি ও হেমার ও ড্রিল মেশিন ইত্যাদি বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রাদী নিয়ে আমার বসত বাড়িতে প্রবেশ করে। আমার স্বামীর বাড়িতে লোকজন না থাকার সুযোগে বেআইনভাবে অনধিকার প্রবেশ করে স্বর্ণালংঙ্কার,গরু,ফ্রিজ,টিভি,নগদ টাকা,মটর সাইকেল ভাঙচুর, ১১টি ঘর-বাড়ি ভাংচুর করে যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমান আনুমানিক ১কোটি ৭২ লক্ষ টাকার উপরে উক্ত ঘটনায় আমি গত ৭ আগস্ট বিকেলে ভৈরব থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। তাছাড়া আমিসহ আমার স্বামীর বাড়ির অর্ধ শতাধিক লোকজন মামলার ভয়ে বাড়িতে প্রবেশ করতে পারতেছিনা । এ অবস্থায় অনেক কষ্টের মাঝে দিন যাপন করছি।
এ ঘটনায় ইউপি সদস্য মোঃ আলকাছ মিয়া বলেন, ঈদুল আজহার দিন বিকেলে জান মাহমুদের বাড়ির হোসেন মিয়ার সাথে কুরবানির মাংস (প্রতিবেশীদের মাঝে বিতরণের মাল্লত) নিয়ে একই গ্রামের বাওরার বাড়ীর মজনু মিয়ার সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ চলাকালে লাঠির আঘাতে শাহ আলম গুরুতর আহত হন। পরে তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কপপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ডাক্তার তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করেন। পরে শাহ আলমের মৃত্যুর খবর আসে। শাহ আলম এর পক্ষের লোকজন প্রতিপক্ষের বাড়ি-ঘর ভাংচুর করে। এ ঘটনায় ছাত্তার মিয়ার পক্ষের প্রায় অর্ধশতাধিক লোকজন বাড়ি ছাড়া রয়েছে।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিন বলেন, এই ঘটনায় শাহ আলমের স্ত্রী শেফালি বেগম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন। ওই মামলায় তিনি ১৫ জনকে আসামি করছেন। মামলার প্রধান আসামি ছাত্তার মিয়া। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তাছাড়া এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়ন রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »