ভৈরবে বিএনপির প্রতিষ্ঠার অন্যতম অংশীদার বীরমুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবির

উপ-সম্পাদকীয়:
‘৭১এ এস.এস.সি পরিক্ষার্থী হুমায়ুন কবির বাবার অমতে ধান বিক্রি করা ১০ টাকা নিয়ে মুক্তি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ। ছাত্রলীগ দিয়ে রাজনীতি শুরু, ‘৭৩সালে হাজী আসমত কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগ মনোনীত ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত, বিশিষ্ঠ ক্রীড়াবিদ, ভৈরবে বিএনপি প্রতিষ্ঠার অন্যতম অংশীদার —- হুমায়ুন কবির।
১৯৫৪ সালে ভৈরব উপজেলার তৎকালীন সাদেক পুর ইউনিয়নে (বর্তমান শ্রীনগর ইউনিয়ন) কৃষক মমতাজ উদ্দিনের ঘরে জন্ম নেন হুমায়ুন কবির।
হাই স্কুল জীবন শুরু করেন ভৈরব শহরে ঐতিহ্য বাহি কে.বি পাইলট হাইস্কুলে।
১৯৭১ সালে বাংগালী জাতি একটি স্বাধীন মানচিত্র পাওয়ার চেতনায় যুদ্ধ শুরু করলে কিশোর হুমায়ুন কবির তখন এস.এস.সি পরিক্ষার্থী।
ছাত্র, যুবকরা যখন স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ হয় তখন এস.এস.সি পরিক্ষার্থী হুমায়ুন কবির বাবার ক্ষেতের ধান ১০ টাকায় বিক্রি করে সে টাকা নিয়েই ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তির সংগ্রামে।
৯ মাস লড়াই- সংগ্রাম চালিয়ে এই কিশোর হুমায়ুন রা ছিনিয়ে আনেন এ দেশের আলাদা পতাকার মর্যাদা।
স্বাধীনতা পরর্বতীতে কলেজ ছাত্র জীবন শুরু করেন ছাত্র লীগের রাজনীতি দিয়ে। তৎকালীন ক্রীড়াঙ্গনে একজন নাম করা শট ফুট মার্শাল আর্ট খেলোয়াড় হওয়ার সুবাধে ‘৭৩ সালে হাজী আসমত কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ক্রীড়া সম্পাদক মনোনয়ন পেয়ে ছাত্র সমাজে ব্যপক পরিচিত, বীর মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবির বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন।
নাম করা শট ফুট খেলোয়াড় হুমায়ুন কবির প্রতি বছর কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায়, অন্যত্র টুর্নামেন্ট সমুহে সব সময় চ্যাম্পিয়ন হতেন।
কলেজ ছাত্র সংসদের নেতা নির্বাচিত হওয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবির তার স্বভাব সূলভ অমায়িক, ভদ্র, নম্রতার আচরণ দিয়ে ভৈরব শহরের রাজনীতিতে আলোচিত হয়ে যান।
১৯৭৯ সালে বহুদলীয় গনতন্ত্রের প্রবক্তা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল( বিএনপি) গঠন করলে বীর মুক্তিযোদ্ধা ছাত্র নেতা হুমায়ুন কবির ভৈরবের বিএনপিতে প্রথম থেকেই আত্মনিবেদিত ছিলেন।
দল টি কে ভৈরবে প্রতিষ্ঠিত করতে বিশেষ করে ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে জিয়াউর রহমানের আদর্শ তুলে ধরে, গ্রাম বাসীদের এই দলে উৎসাহিত করার অন্যতম ভূমিকায় ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবির।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা, প্রয়াত মহামান্য রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের জন্ম স্থান ভৈরবে জাতীয়তাবাদী শক্তি কে গ্রাম এলাকায় সুসংগঠিত করতে যে সকল ৪/৫ জন ইউনিয়ন নেতার নাম আজীবন উঠে আসবে তাদের অন্যতম ছিলেন হুমায়ুন কবির।
উল্লেখ যে শুধু ইউনিয়নে নয় — বরং ভৈরব শহর এলাকাতে দলের সকল পর্যায়ে মুরুব্বী নেতা, ছাত্র, যুবক, শ্রমিকদের সাথে দলীয় কার্যক্রম বিস্তারে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলতেন কঠোর পরিশ্রমী ও ত্যাগী এই নেতা।
১৯৭৯ সাল থেকে মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত দলের নিবেদিত প্রাণ এই নেতা মূল ধারার পক্ষে নীতি আদর্শ নিয়ে সক্রিয় ছিলেন বিধায় দলের সর্ব মহলে তার গ্রহণ যোগ্যতা ছিল।
১৯৭৯ সাল,১৯৯১ সালে দলীয় সংসদ সদস্য প্রার্থীদের নির্বাচিত করতে অসাধারণ ভূমিকা পালন করেন হুমায়ুন কবির।
হুমায়ুন কবির ১৯৮০ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ভৈরবের ঐতিহ্যবাহী জব্বার জুট মিলে লেবার অফিসার হিসেবে সফল দায়িত্ব পালন করে গেছেন। উল্লেখ করা যেতে পারে, সুদীর্ঘ সময় লেবার অফিসার থাকাকালীন এই মিলে শ্রমিক দের প্রিয় পাত্র ছিলেন হুমায়ুন কবির।
তার সুবাদে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক রাজনীতি কে অত্র মিলে সুসংগঠিত রাখতে বীর মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রিয় এই নেতার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল।
ব্যাক্তিজীবনে একজন নম্র,ভদ্র,অমায়িক, সজ্জন,’৭১এর রনা্ঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা সর্ব মহলে গ্রহণ যোগ্য এই বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির কে ২০০৬ সালের ‘৩১শে জানুয়ারি অকালে হারিয়ে ছিল ভৈরব বাসি।
বর্ণাঢ্য নীতি আদর্শের কর্মকাল রেখে যাওয়া এই বীর সেনানীকে আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন যেন বেহেশত নসীব করেন।

লেখক
আনিসুর রহমান কাপন
সাধারণ সম্পাদক
ভৈরব উপজেলা শ্রমিক দল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »