ভৈরবে রেলওয়ের জায়গা থেকে কয়লা অপসারণে পুলিশের অভিযান

শামীম আহমেদ:
ভৈরবের একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র ভৈরব মেঘনা নদীর পাড়। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী চক্র বিনোদন কেন্দ্রটি বিষাক্ত কয়লা মজুদ করে নদীর পাড়সহ দূষিত করে ফেলছে পুরো পরিবেশ। এনিয়ে সাংবাদিকগণ একাধিক পত্রপত্রিকায় সমস্যায় গুলো তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশ করলেও কোন উদ্বেগ গ্রহণ করা হয়নি। গত দুদিন আগে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার ভৈরব প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান ফারুক সমস্যা গুলো নিয়ে যুগান্তর পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশ করলে টনক নড়ে ভৈরব রেলওয়ে প্রশাসনের। এরই প্রেক্ষিতে ঐ এলাকায় মজুদকৃত কয়লা অপসারণে অভিযান চালায় ভৈরব রেলওয়ে পুলিশ। অভিযানের খবর পেয়ে ব্যবসায়ীরা উপস্থিত হয়ে আগামী দু মাসের মধ্যে মজুদকৃত কয়লা অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার আশ্বাস দেয়। গত ৩ অক্টোবর শনিবার দুপুরে ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মোঃ ফেরদৌস আহাম্মদ সঙ্গিয় ফোর্স নিয়ে এ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন ভৈরব নৌ- থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মোঃ তরিকুল ইসলাম , বিআইডব্লিউটিএ ভৈরব অফিসের উর্দ্বতন উপ- সহকারী প্রকৌশলী মিথুন কুমার দাস। উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেঘনা পাড়ে কয়লা মজুত বন্ধ করতেই হবে। কয়লা মজুদ বন্ধ করতে নদীর পাড়ে জাহাজ ভীড়াতে নিষেধ করেছে নৌ- থানার ওসি তরিকুল ইসলাম ও বিআইডব্লিউটি এর প্রকৌশলী মিথুন কুমার দাস।

ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসি মোঃ ফেরদৌস হায়দার জানান, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ পুলিশ নিয়ে অভিযান চালানো হয়। মেঘনা পাড়ে অবৈধভাবে ব্যবসায়ীরা কোনভাবে কয়লা মজুত করতে পারবেনা। তাদের কয়েকজন রেলওয়ে থেকে কৃষি লীজের নামে জায়গা দখল করে অবৈধভাবে এখানে কয়লা মজুত করায় তিতাস গ্যাসের সঞ্চালন লাইনসহ তিনটি সেতু ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়াও যে কোন সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটে হতাহতের আশংকা রয়েছে। পুলিশ ব্যবসায়ীদের নিকট লীজের কাগজপত্র দেখতে চাইলে তারা কোন কাগজ পত্র দেখাতে পারেনি। উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এখানে কয়লা মজুত বন্ধ করতে অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানে নৌ- থানার ওসি তরিকুল ইসলাম ও ভৈরব রেলওয়ের উর্দ্বতন প্রকৌশলী মিথুন কুমার দাস জানান নদীর পাড়ে জাহাজ থেকে কয়লা নামাতে নিষেধ করা হয়েছে । ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসিকে ঘাটে জাহাজ থেকে পাড়ে কয়লা নামানো বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। মজুদকৃত কয়লা অপসারণে পুলিশের কাছ থেকে দু মাসের সময় চেয়ে নেন কয়লা ব্যবসায়ীরা।

ভৈরব কয়লা ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ মজনু সওদাগর বলেন, এ কয়লা ব্যবসার সাথে ত্রিশ থেকে চল্লিশ হাজার লোক জড়িত। আমরা এখন যদি কয়লা ব্যবসা বন্ধ করে দেই তাহলে আমাদের পথে বসা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবেনা। মানুুষের কাছে আমাদের প্রায় আঠারো কোটি টাকা বকেয়া পড়ে আছে। এখন ব্যবসা বন্ধ করলে বকেয়া টাকা আদায় করা সম্ভব হবে না। এবিষয়ে সুদৃষ্টি রেখে পুলিশের কাছ থেকে দুই মাস সময় নিয়েছি ব্যবসায়ীরা। এরই মধ্যে রেলওয়ের জায়গা থেকে কয়লা সরিয়ে ফেলা হবে। এখন থেকে এখানে আর কয়লা মজুদ করা হবেনা বলে আশ্বাস দেন রেলওয়ে পুলিশ কে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »