ভৈরবে লকডাউন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ সুপারের মতবিনিময় সভা

শামীম আহমেদ:
ভৈরবে করোনার ভয়াবহতা রোধ কল্পে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ১০ জুন বুধবার দুপুর ১২ টায় থানা প্রাঙ্গনে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মো.শাহিন এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ, বিপিএম(বার)।

এ সময় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ভৈরব সার্কেল এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রেদোয়ান দিপু, ভৈরব থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত বাহালুল খান বাহার, ভৈরব উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সেন্টু, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ভৈরব প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক এস এম বাকি বিল্লাহ, ভৈরব সাংবাদিক সমিতি ও টিভি জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশের সভাপতি আসাদুজ্জামান ফারুক ভৈরব রিপোর্টাস ক্লাব ও ইউনিটি সভাপতি ও উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক তাজুল ইসলাম তাজ ভৈরবী, ভৈরব রিপোর্টাস ক্লাব ও ইউনিটি সাধারন সম্পাদক ও ভৈরব অনলাইন নিউজ ক্লাবের সভাপতি আলাল উদ্দিন ভৈরব প্রেসক্লাব এর সিনিয়র সহ – সম্পাদক সত্যজিৎ দাস ধ্রুব ও ভৈরব চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি সিনিয়র সহ-সভাপতি হাজী মোশাররফ হোসেন।মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ, বিপিএম (বার) বলেন, কিশোরগঞ্জ জেলার মধ্যে ভৈরব উপজেলায় করোনার প্রাদুর্ভাব অনেক বেশি। দিন দিন এই উপজেলায় করোনার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যাচ্ছে। এ কারণে এই করোনার ভয়াবহতা রোধ করতে হলে ভৈরব বাসীকে কঠিন ত্যাগ স্বীকার করতে হবে । এজন্য ভৈরব উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পুলিশ , সাংবাদিক জনপ্রতিনিধি মিলে লকডাউন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে ।
অন্যান্য জেলার সাথে ভৈরবের যাতায়াতের প্রবেশপথ বা বহির্গমন কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা, কাচাবাজার উন্মুক্ত স্থানে স্থানান্তরিত করণ , স্বাস্থ্যবিধি অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট এর মাধ্যমে জেল জরিমানা র ব্যবস্থা করা,
বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচলকরণ যানবাহনে চলাচলের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও নিয়ন্ত্রণ এ সকল বিষয় গুলো তিনি আগামীকাল জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি র সভায় উত্থাপন করবেন বলে সভায় অবহিত করেন ।
এছাড়া ও তিনি সব ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধ সহ ভৈরবের করোনার ভয়াবহতা রোধ কল্পে ভৈরবের জন্য সেনাবাহিনী, RAB, অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার মোতায়েন এর ব্যবস্থা করার কথা জানান । এ সময় সভায় ভৈরব থানা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ভৈরবে সর্বপ্রথম করোনা আক্রান্ত হয়েছিল একজন এসআই ১০ এপ্রিল। পরে পর্যায়ক্রমে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), পুলিশ সদস্য, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ এ পর্যন্ত ৩০৭ জন আক্রান্ত হয়েছে। যদিও ১৯ মে পর্যন্ত ভৈরবে মোট আক্রান্ত ছিল ৮২ জন। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভৈরবের ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে দোকানপাট খুলে দেয়া হয়েছিল। এতে ভৈরবের অবস্থা অবনতির দিকে ধাবিত হয়েছে। গত এক সপ্তাহে ভৈরবের করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৮ জনের। এদের মধ্যে সবারই নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫ জনের নমুনার রিপোর্ট পজিটিভ পাওয়া গেছে। মোট সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৩ জন। এছাড়া ভৈরব উপজেলায় ৫ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত লকডাউন চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »