ভৈরবে সাবেক কাউন্সিলর ও তার সমর্থকদের হামলায় বর্তমান কাউন্সিলরের কর্মী আহত

স্টাফ রিপোটার:
আসন্ন ভৈরব পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড জগন্নাথপুর দক্ষিণ পাড়া এলাকার কাউন্সিলর পদপ্রার্থী সাবেক কাউন্সিলর আশরাফুল আলম আশরাফ ও তার সমর্থিত লোকদের অতর্কিত হামলায় আহত হন বর্তমান কাউন্সিলর হাজী ফজলু মিয়ার সমর্থক ও কর্মী হাসান মাহমুন পিন্টু ও ফেরদৌস মিয়া।
২০ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জগন্নাথপুর এলাকার কমলার মোড়ে এই ঘটনাটি ঘটে।
এই ঘটনায় কাউন্সিলর পদপ্রার্থী সাবেক কাউন্সিলর আশরাফুল আলম আশরাফ কে প্রধান আসামি করে আরো ২৬ জনের নাম উলে­খসহ ভৈরব থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন হাসান মাহমুন পিন্টু।
আহত হাসান মোহম্মদ পিন্টু জানান, আমি বর্তমান কাউন্সিলর হাজী ফজলু মিয়ার সমর্থনে নির্বাচনের জন্য মিছিল মিটিংসহ প্রচার-প্রচারণা কাজ করে থাকি বলে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী সাবেক কাউন্সিলর আশরাফুল আলম আশরাফ আমাকে বিভিন্ন সময় হুমকি প্রদান করে আসছিল যেন নিবাচর্নী প্রচার প্রচারণার কাজ বন্ধ করি। কিন্তু আমি বর্তমান কাউন্সিলর হাজী ফজলু মিয়ার সমর্থনে নির্বাচনী প্রচারের এর কাজ চালিয়ে যাই।
তাই তারা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আজ শনিবার আমি ও আমার ফুফাতো ভাই ফেরদৌস মিয়া বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তা দিয়ে কমলার মোড় যাওয়ার সময় ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী সাবেক কাউন্সিলর আশরাফুল আলম আশরাফ ও তার সমর্থিত লোকজন রাস্তায় আমাদের পথরোধ করে।
পরে আশরাফুল আলম আশরাফ কিছু না বলেই প্রথমে এসে আমাকে গেঞ্জির কলারে ধরে মুখে ঘুষি মারে এবং তার লোকদের হুকুম দেয় আমাকে যেন মেরে ফেলার।
এক পর্যায়ে সে ঘুষি মারার পর তার সমর্থিত লোকজনরা এসে আমার ও আমার ফুফাতো ভাইকে, দা, লাঠি, জিআই পাইপ ও ইট দিয়ে আঘাত করতে থাকে। এসময় আমাদের এলাকার একটি মাদ্রাসার ভিতরে কোনো রকম দৌড়ে গিয়ে মাদ্রাসার মেইন গেইট লাগিয়ে আমরা নিজেদের প্রাণ রক্ষা করি।
তখন মাদ্রাসার গেইটের বাহিরে আশরাফুল আলম আশরাফ ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা দেশীয় অস্ত্র হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আমাদের মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছিল। এক পর্যায়ে আমাদের চিৎকার শুনে এলাকার লোকজন এগিয়ে আসলে ওইস্থান থেকে আশরাফুল আলম আশরাফ ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা সরে পরে। পরে এলাকার লোকজন আহত অবস্থায় আমাকে ও আমার ফুফাতো ভাইকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।

এছাড়া হাসান মাহমুন পিন্টুর ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান রুস্তম আলী স্টোরের ম্যানেজার মো. রাসেল মিয়া বলেন, কিছুদিন আগে আমাদের দোকানে আশরাফুল আলম আশরাফ এসে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও আমাদের প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকার হাসান মাহমুন পিন্টু ভাইকে নিবাচর্নী প্রচারণা থেকে সরে দাঁড়াতে বলার জন্য বলে। তা নাহলে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়। তখন প্রতিষ্ঠানে শুধু আমি একা ছিলাম। ওনি যে এসে আমাদের হুমকির দিয়ে যায় ওই সবকিছু আমাদের প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরায় রেকর্ড আছে। পরে দোকানে হাসান মাহমুন পিন্টু ভাই আসলে আমি ওনাকে বিষয়টি জানাই। বিষয়টি জানার পর ওনি নিজের জীবনের নিরাপত্তা জন্য ভৈরব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন।

পৌর কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর হাজী ফজলু মিয়া জানান, এলাকায় আমার জনপ্রিয়তা বেশি। জনগণ আমাকে ভালোবাসেন। আমার প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থী বুঝে ফেলেছেন তার পরাজয় নিশ্চিত। তাই সে আমার সুনামক্ষুন্ন করার এবং নিবার্চন বানচাল করার লক্ষ্যে বার বার নাশকতার প্রশ্রয় নিয়ে আমাদের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে। হাসান মাহমুদ পিন্টু হল আমার নির্বাচনের একজন একনিষ্ঠা সমর্থক। সে আমার নিবার্চনী মিছিল মিটিংসহ সকল প্রচার-প্রচারণা করে। তাই আমার প্রতিপক্ষ সবসময় সর্বপ্রথম তাকে টার্গেট করে তার উপর বার বার হামলা করতে চাই। সে অনেকদিন যাবত পরিকল্পনা করে আসছিল হামলা করার। আজ সুযোগ পেয়ে সে ও তার গুণ্ডাবাহিনি নিয়ে হাসান মাহমুন পিন্টুর উপর হামলা চালায়। এতে সে আহত হয় এবং তার সাথে আমার এক ভাতিজাও আহত হয়। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিচারের দাবি জানাই।
এই বিষয়ে কাউন্সিলর পদপপ্রর্থী সাবেক কাউন্সিলর আশরাফুল আলম আশরাফ মুঠোফোনে জানান, ঘটনাটি পুরো মিথ্যা এবং বানোয়াট। আমাকে হয়রানি করার লক্ষ্যে আমার নামে মিথ্যা প্রচার করে যাচ্ছে। তাদের টাকা পয়সা বেশি বরং তারা তাদের গুণ্ডাপাণ্ডা দিয়ে আমাদের উপর হামলা করে। এতে করে আমার সমর্থিত কিছু লোক আহত হয়। আমিও এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিব।
ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ মো. শাহীন বলেন, ঘটনাটির বিষয়ে একটি অভিযোগ পত্র পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »