September 22, 2021, 8:50 pm
শিরোনাম :
নাটক অঙ্গনে সর্ব মহলে প্রশংসার শীর্ষে হুমায়ূন আহমেদ প্রেমী নাট্য নির্মাতা পার্থিব মামুন কুলিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ভৈরবে আবাসিক হোটেল আল জিহাদে দেহ ব্যবসার অপরাধে ২জন গ্রেফতার কিশোরগঞ্জে কোভিড-১৯ সংক্রমণ মৃত্যুশূন্য, সুস্থ ১০, শনাক্ত ৯ সারাদেশে এবার ইউএনওদের মতো নিরাপত্তা পাবে উপজেলা চেয়ারম্যানরাঃ উচ্চ আদালত আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হবে ভৈরবের মেয়ে জোহরার ‘অপেক্ষা’ ভৈরবে “শেখ হাসিনা ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়” র অনুমোদন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে ভাইকে নিজেই হত্যা করে বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের এর স্বীকার টিএইচও ডাঃ জালাল উদ্দীন আহমেদ সিভিল সার্জন হিসেবে পদন্নোতি পাওয়ায় ফুলেল শুভেচ্ছা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ ভৈরব এর আনন্দঘন লঞ্চ ভ্রমণ

ভৈরবে নিরবের হাসি খুশি মিষ্টি পানের দোকানে পান বিলাশীদের ভীর

শামীম আহমেদ,সম্পাদক ও প্রকাশক :
  • আপডেটের সময় : Wednesday, September 15, 2021
  • 418 দেখেছেন:

মিষ্টি পানের টানে পান ভোজনরা ভীর জমায় ‘নিরবের হাসি খুশি মিষ্টি পানের দোকানে’। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ধুমধাম চলে মিষ্টি পান বিক্রি। স্বাদ ও গন্ধে অতুলনীয় ২১ রকমের পান খেতে ছুটে আসেন ভৈরবসহ আশে পাশের উপজেলার পান প্রেমী বয়স্ক, তরুণ ও যুবকরা। তারা নিজেরা মিষ্টি পানের খিলি মুখে পুরে আবার পরিবার ও প্রিয়জনের জন্যও নিয়ে যায় স্বাদের মজার পান।

ভৈরব শহরের প্রাণকেন্দ্র আইস কোং মোড়ে অবস্থিত নিরবের হাসি খুশি মিষ্টি পানের দোকানে দীর্ঘ বিশবছর ধরে খিলি পান বিক্রি করা হচ্ছে। পান বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়েছে পরিবারটি। প্রতিদিন ২০-২৫ বিরা খিলি পান বিক্রি করে থাকেন দোকানী ফারুক ও তারেক। তারেক ছোট বেলায় ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে শারীরিক কার্যক্ষমতা হারান।
বাবা লায়েছ মিয়া দীর্ঘ বিশবছর আগে দোকনে পান বিক্রি করতে। চার বছর হলো লায়েছ মিয়া মারা যান। বাবার মৃত্যুও পর ছেলে ফারুক ও তারেক দুই ভাই মিলে শিফট করে দোকানে বসে। সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকে দোকানটি।

পানে সাথে চুন, সুপারি, খয়ের তো আছেই। কেউ কেউ জর্দ্দা ও তামাক পাতা খেতেও অভ্যস্ত। কিন্তু এই কয়েকটি উপকরণেই সীমাবদ্ধ না। পানের প্রতিটি খিলিতে দেয়া হয় মধু, সোনাপাতা, হরতকি, জৈষ্টমধু, কালোজিরা, লং, এলাচ, দারুচিনি, কিসমিস, চেরিফল, তুম্মা, আদা, মরুব্বা, বয়রা, কমলা ও মাল্টার সেন্ট, কাজুবাদাম সহ নানা জাতের বাদাম। ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী মূল্যভেদে এসব উপকরণ পানের খিলিতে দেয়া হয়। সাধারণ পান ৫টাকা। তবে মিষ্টি পানের সবনিম্ন ১০টাকা থেকে শুরু এবং সর্বোচ্চ ১২০ টাকা। শতাধিক উপকরনে তৈরি কার অনন্য স্বাদ ও মোহনীয় গন্ধের মিষ্টি খিলি পানের টানে প্রতিদিনই ছুটে আসেন হাজারো মানুষ।
এদশে প্রাচীনকাল থেকেই চাষ হয় মিঠাপান, ছাঁচিপান, লালিপান, কর্পূরীপান, বাংলাপান, গাছপান ও খাসিয়াপান। এই সাত ধরণের পানের রস রুচিবৃদ্ধি, মুখের র্দূগন্ধ দূর ও হজমে সহায়তা করে। সাত পানের পাশাপাশি আকর্ষনী খিলি পানের নাম দেয়া হয়েছে- দেবর-ভাবী পান, শালী-দুলাভাই পান, বৌ-সোহাগী পান, ছাত্রবন্ধু পান, আদশা পান, আগুন পান, খুসবু পান, বেনারশী পান, নিঝুম পান, ইয়াং পান, চাঁদ বদনী বধূ পান, অগ্নিঝরা পান, হিরমালাই পান, সন্ধ্যা বিকাল পান, পথ চলার সাথী পান, ভালোবাসার উপহার পান সহ বাহারি পান ইত্যাদি।
পানের দোকানী ফারুক ও তারেক জানান, তাঁর বাবা লায়েছ মিয়া বিগত ২০ বছরের বেশি সময় ধরে ভৈরব বাজারের কাছে আইস কোং মোড়ে পানে একটি খোলা টংয়ে খিলি পান বিক্রি করত। গতচার বছর আগে বাবা মারা যাওয়ার পর তারা আপন দুই ভাই সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত পান বিক্রি করেন। প্রতিদিন গড়ে ২হাজার খিলি পান বিক্রি হয়।
রয়েছে ‘নিরবের হাসি খুশি মিষ্টি পানের দোকান” নামে ফেসবুক পেইজ। অর্ডার নেওয়া হয় বিভিন্ন বিয়ে, জন্মদিন, সুন্নেতে খৎনা, হালখাতার অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন উৎসবে।

পান দোকানী প্রতিবন্ধী তারেক মিয়া জানান, তাঁর বাবা লায়েছ মিয়া একইস্থানে বিগত ২০ বছর আগে খিলি পান বিক্রি করত। ৪ বছর আগে বাবা মারা যাওয়ার পর ওই দোকানে সে নিজেই খিলি পান বিক্রি শুরু করেন। তাঁর বড়ভাই ওমর ফারুক পানের উপকরণ সংগ্রহ করে দেন এবং ভীরের সময় সহযোগিতা করেন তাকে। দুইভাই মিলে গ্রাহকদের সামাল দিতে হয়। রোদ ঝড় বৃষ্টিতে এক ছাতার নিচে বসে থেকেই প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সময় দিতে হয়। গড়ে এক হাজার পাঁচশত খিলি পান বিক্রি করেন তারা। একটি ফেসবুক পেইজও রয়েছে। ভৈরবসহ পার্শ্ববর্তী জেলা উপজেলার বিভিন্ন অনুষ্ঠান বিয়ে, জন্মদিন, সুন্নেতে খৎনা, হালখাতাসহ বিভিন্ন উৎসবে অর্ডার নেওয়া হয় বলেও জানান।

এই বিভাগের আরও খবর

Categories

All rights reserved © SA News 24 BD 2020-2021
Theme Development By TechMas