ভৈরব উপজেলার শ্রীনগরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ব্যক্তির মৃত্যু

স্টাফ রিপোটার:
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম তারা মিয়া(৬০)। উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের পাগলা বাড়ির বাসিন্দা নিহত তারা মিয়া ঢাকা মহাখালীর সংক্রামণ ব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঈদের দিন মারা গেছেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে রাহিম মিয়া বাদী হয়ে ২৭ জনকে আসামী করে ভৈরব থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
স্থানীয়রা জানায়, ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় প্রতিপক্ষ জাফরনগর গ্রামের ভূইয়া পাড়ার বেশ কয়েকজন বখাটে এবং তাদের স্বজনদের অতর্কিত হামালায় গেল ১২ মে (মঙ্গলবার) পাগলা বাড়ির ৬ জন ব্যাক্তি আহত হয়। এদের মধ্যে জিল্লু মিয়ার নামে এক ব্যক্তিকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। ফলে গ্রাম্য মাতব্বররা ঘটনাটি আপোষ-মিমাংসার জন্য গেল ১৬ মে (শনিবার) দুপুরে পাগলা বাড়িতেই শালিস বৈঠকে বসেন। বৈঠকের এক পযার্য়ে সালিশানদের কথা কাটাকাটির ইস্যুকে কেন্দ্র প্রতিপক্ষের লোকজন ফের চড়াও হয়ে উঠে এবং পাগলা বাড়ির লোকজনের উপর হামলা করে। এ ঘটনায় নিহত তারা মিয়া ও পাগলা বাড়ির আরও ৬জনসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এছাড়াও নিহত তারা মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে তারা মিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকার মহাখালী সংক্রামণ ব্যাধি হাসপাতালে পাঠায় কর্বত্যরত চিকিৎসকরা। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
খোজঁ নিয়ে এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাগেছে, শ্রীনগর ইউনিয়নের জাফরনগর গ্রামের মাধবপুর মহল্লার ভূইয়া বাড়ির শান্ত, জুয়েল, রিফাত, নাজমুল, শরীফ ও বাঈজিদসহ একটি সংঘবদ্ধ বখাটের দল পাশের এলাকা ভবানীপুরে দীর্ঘদিন ধরে মেয়েদের ইভজিটিং করে আসছিল। বখাটেরা রাস্তা-ঘাটে চলা ফেরা করা নারী এবং স্কুল ও মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের দেখলে অশ্লীল এবং কুরুচীপূর্ণ ভাষায় উত্যক্ত করে। ফলে এলাকায় এসব ঘটনায় একাধিক সালিশ বৈঠকও হয়েছে। গেল ১২ মে (মঙ্গলবার) দুপুরে ভবানীপুর গ্রামের পাগলা বাড়ি অতিক্রম করার সময় শান্ত ও জুয়েলসহ বখাটেরা দু’টি ঘরের জানালা দিয়ে উকি দেয়। একই সঙ্গে তারা মেয়েরদের ইঙ্গিত করে অশ্লীল এবং কুরুচীপূর্ণ ভাষায় উত্যক্ত করে। এই ইভিটিজিংয়ের বিষয়টি পাগলা বাড়ির হারুন ও জিল্লুর মিয়ার চোখে পড়ে। ফলে তারা দু’জন প্রতিবাদ করায় বখাটেরা মুহুর্তেই চড়াও হয়ে ওঠে এবং মুঠোফোনে খবর দিয়ে তাদের স্বজনদের এনে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে জিল্লু মিয়া, হারুন, সুজন, হৃদয়, সাইফুল ও নাদিরা বেগম আহত হয়। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। আর জিল্লু মিয়া গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। পরে এই ঘটনাটি আপোষ-মিমাংসার জন্য গেল ১৬ মে (শনিবার) শালিস বৈঠকে বসলে আরেকটি সংর্ঘষ হয়। এতে গুরুতর আহত তারা মিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঈদের দিন মারা যান।
এ বিষয়ে নিহতের ছেলে ও হত্যা মামলার বাদী রাহিম মিয়া জানান, জাফরনগর গ্রামের ভূইয়া পাড়ার বখাটে এবং উশৃংখল ছেলেরা এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে এসে মেয়েরদের ইঙ্গিত করে অশ্লীল ভাষায় উত্যক্ত করে আসছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় তারা আমার চাচাত বড় ভাইকে পিঠিয়ে গুরুতর আহত করেছে। পরে এই ঘটনা আপোষ-মিমাংশা করতে এসে আবার তারা হামলা করেছে। এতে আমার বাবাসহ বাড়ির আরও ৬জন আহত হয়।
রাহিম মিয়া আরও জানায়, তার বাবা পায়ে আঘাত পেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঈদের দিন মারা গেছেন। এই ঘটনার সঠিক এবং উপযুক্ত বিচারের দাবীতে সে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ভূইয়া বাড়ির ইসমাঈল ভূইয়াকে প্রধান অভিযুক্ত করে ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শাহীন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় হত্যা মামলা নেয়া হয়েছে। একই সাথে আসামীদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ। আশা করছি অচিরেই আসামীদের ধরতে আমরা সক্ষম হবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »