ভৈরব থেকে অপহরনের পর মুক্তিপণ পেয়ে চোঁখ বেধে ছেড়ে দিল মুদি দোকানিকে

জয়নাল আবেদীন রিটন, বিশেষ প্রতিবেদক॥
ভৈরব থেকে অপহরণের পর মুক্তিপণ পেয়ে অপহরণকারিরা চোখঁ বেধে ছেড়ে দিল অপহৃত মোবারক মিয়া (৩৭) নামে এক মুদি দোকানিকে। মোবারক মিয়া শহরের পঞ্চবটি গ্রামের মৃত ইসহাক মিয়ার ছেলে। পেশায় সে একজন মুদি দোকানদার। রোববার সকালে ভৈরব বাজারে বাগানবাড়ী এলাকায়।

মোবারক মিয়া বলেন, তার কাড়ি সংলগ্ন ক্ষুদ্র একটি মুদি দোকান চালায়। গতকাল রোববার সকাল ১১ টায় তিনি দোকানের সদাই কিনতে ভৈরব বাজার বাগানবাড়ীতে যায় । বাজারে পৌঁছলে কে বা কারা তাকে রুমাল শুকিয়ে অজ্ঞান করে ফেলে। এরপর দুপুরে তার জ্ঞান ফিরলে তিনি দেখতে পান একটি নির্জন স্থানে তার পাশে মুখোশধারী ৬/৭ লোক লাঠিসোটা ও ধারালো ছুড়ি নিয়ে দাড়িয়ে আছে। মোবারক মিয়া এখানে থাকার কারণ জানতে চাইলে তারা তাকে লাঠি দিয়ে শরীরে আঘাত করতে থাকে এবং একপর্যায়ে মুখোশধারী অপহরণকারীরা তার কাছে এক লাখ টাকা দাবী করে। একথা শুনে সে জানায় আমি ক্ষুদ্র দোকানদার। এত টাকা কোথা থেকে দিব। অপহরণকারীরা এসময় বলে টাকা না দিলে তোকে হত্যা করব। পরে ভয়ে সে তার মোবাইলে বাসায় ফোন করে। বাসা থেকে জানতে চায় তুমি কোথায় আছ। তখন সে বলে আমি কোথায় জানিনা। বিকাশে ৫০ হাজার টাকা পাঠাও, নইলে একদল লোক আমাকে মেরে ফেলবে হুমকি দিচ্ছে। একথা শুনে অপহরণকারীদের সাথে তার পরিবারের সদস্যরা রফাদফা করে বিকেল ৫ টায় দুটি বিকাশ নাম্বার ৩৫ হাজার টাকা পাঠায় (বিকাশ নাম্বার -০১৭৯০২৪৩০০৩/০১৬৭২৮৭১২২৬)। ভৈরবের পঞ্চবটি এলাকার আলামিন টেলিকম নামের দোকানের ০১৭৯০৬৪৪৬১১ নাম্বার থেকে উল্লেখিত দুটি নাম্বারে ২৫ হাজার ও ১০ হাজার টাকা দুইবারে পাঠায় বলে তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে। তারপর অপহরণকারীরা বিকাশে টাকা পেয়ে তাকে একটি রিক্সায় উঠিয়ে গাউসিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। এসময় সে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে এলাকাটি গাওসিয়া বাসস্ট্যান্ড। এরপর ওই এলাকার লোকজনের সহযোগীয় সে একটি মটরসাইকেলে রাত ৮ টায় নরসিংদির ইটাখোলা বাসস্ট্যান্ড আসে। তারপর সেখান থেকে একটি সিএনজি দিয়ে রাত সাড়ে ৯ টায় সে ভৈরবের বাসায় পৌঁছে।

মোবারেকের ভগ্নিপতি মোঃ রুবেল এই প্রতিনিধিকে জানান, গতকাল দুপুরে তার ফোন পেয়ে আমরা আতংকিত হয়ে যায়। মুক্তিপণের টাকা না দিলে তাকে হত্যা করা হবে একথা শুনার পর আমরা ধারদেনা করে ৩৫ হাজার টাকা বিকাশে পাঠাতে বাধ্য হয়েছি। ঘটনায় থানায় অভিযোগ করবেন কিনা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মোবারক এখনো অসুস্হ। সে সুস্হ হলে সকল ঘটনা অবহিত হয়ে থানায় আমরা অভিযোগ করব।

ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শাহিন জানান, ভৈরবে এ ধরণের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে যার কোন ভিত্তি নেই। এসকল ঘটনাগুলোর অধিকাংশই ভিত্তিহীন। তবে অভিযোগ পেলে আইনগ ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »