মফস্বল সাংবাদিকতা অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ

উপ-সম্পাদকীয়:
সময়টা তখন এমনই ছিল বন্ধুদের সাথে অড্ডামারার আগে স্থানীয় দৈনিক/সাপ্তাহিক /পাক্ষিক পত্রিকার কোন বড় ভাইএর সাথে হ্যায় হ্যালো ,এককাপ চা অথবা স্থানীয় প্রেসক্লাবের বারান্দায় জাতীয় দৈনিক গুলো উল্টেপাল্টে দেখা। ফাঁক থেকে পরিচিত কারো ভরাট গলায় নাম ধরে ডাক পড়লে ভিতরে প্রবেশের সুযোগ। সময় থাকলে সেই বড় ভাইএর সাথে বড় ভাইএর কাজে যাওয়া। এ ভাবেই মফস্বলে সাংবাদিক হয়ে ওঠা।

জেলা উপজেলার সাংবাদিকদের কথা বলছি। বড় ভাইয়ের লেখা দেখে শিখা তারপর কোন স্থানীয় দৈনিক/সাপ্তাহিক /পাক্ষিক পত্রিকায় হাতে খড়ি। ধীরে ধীরে সাংবাদিক পরিচয়ে পরিচিতি পাওয়া। স্থানীয় প্রশাসনের অনুষ্ঠান গুলোতে অংশ নেয়া। প্রশাসনের লোকজনের সাথে ‘সখ্যতা ইত্যাদি।

কিন্তু মাস গেলে বেতন নেই। তবুও এ যেন হোরোইনের মত নেশা। পরিবারের অভিভাবকের গালমন্দ এটা নিত্য দিনের পাওনা । দিন যায় মাস যায় বছর যায়। একসময় লক্ষ থাকে ঢাকার জাতীয় দৈনিকে প্রতিনিধি হওয়ার। বায়োডাটা পাঠানোর পর স্বপ্ন দেখে প্রতিনিধি হলে সম্মানী পাওয়ার। আর সম্মানী পেলেই বাবা মাকে কিছু একটা দিবই।

ডাক আসে পত্রিকা অফিসে যাওয়ার । সময়মত গিয়ে সব বুঝিয়ে দেয়ার পর একটা আইডি হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে ভালো ভাবে কাজ করেন ,বিজ্ঞাপন দেন তারপর বেতনের বিষয়টা দেখবোনে। আবার কেউ কেউ বলে আইডি কার্ড করতে তো খরচ লাগে সে ক্ষেত্রে টাকা পাঠিয়ে দিলে আইডি পেয়ে যাবেন। অবশ্য কিছু কিছু পত্রিকা প্রতিনিধিদের সম্মানী দেন। যাই হোক ফিরে এসে আবার ও কাজে লেগে পড়া।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের নিউজ করতে গেলে বিশেষ করে ক্ষমতাশালীদের, ঐ সাংবাদিক আমার নামটা যেন প্রথম পাতায় হেডিং এ আসে। যাই হোক এভাই চলে প্রতিনিধিদের দিনকাল। নিউজ কারো বিপক্ষে গেলে তো সাংবাদিকই নিউজ হয়ে যায়, এমন কি বাড়িঘর ভাংচুর সহ জীবনও বিপন্ন হয় বা হচ্ছে।

মফস্বল সাংবাদিকদের গায়ে হাত তোলার সাহস কোথা থেকে পায়? সে পুলিশ ,রাজনৈতিক কর্মী নেতা বা সাধারণ মানুষ ? এর কারন মফস্বল সাংবাদিকরা ঐক্য বদ্ধ নয়। একই জেলা উপজেলাতে দুই তিনটা করে প্রেসক্লাব সহ সাংবাদিকদের নানান সংগঠন। দূর্বল নেতৃত্ব। একজনের বিরুদ্ধে অন্য জনের ক্ষোভ। সবকিছু মিলিয়ে ঐক্যের কোন বন্ধন নেই। সরকারি কোন সুযোগ সুবিধা পেলে এক শ্রেণীর প্রবীনেরা গ্রহন করে নেয়। কিছু তাদের অনুগতদের দেয় আর বাকি সাংবাদিকরা বঞ্চিত হয়। এভাবেই চলছে মফস্বল সাংবাদিকতা।

যারা শুধু এ পেশায় জড়িত তারা বহু আগে পেশা ছেড়ে দিয়ে ছেন আর যারা টিকে আছেন তারা সাংবাদিকতার পাশাপাশি কিছু একটা করে পেশাকে ধরে রেখেছেন।।

শত প্রতিকূলতার মাঝেও মফস্বল সাংবাদিকতা অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ। আমি ব্যক্তিগত ভাবে মফস্বল সাংবাদিকদের শ্রদ্ধা করি। আমার এ লেখায় যদি কেউ মনে কষ্ট পেয়ে থাকেন ক্ষমা করে দিবেন।

তবে মনে রাখবেন ঐক্যের কোন বিকল্প নাই। আগামীর দিনগুলি সাংবাদিকদের জন্য অনেক ভয়ানক কঠিন হয়ে উঠবে। তাই যে যে আদর্শের হোন না কেন সাংবাদিকতা হোক সকল মতের উর্দ্ধে।

বি:দ্র: লেখাটা খারাপ লাগলে সরাসরি মন্তব্য করলে কৃতার্থ হবো
Naim Parvez Apu ফেসবুক আইডি থেকে নেয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »