রাজবাড়ীতে ১ বছরের শিশু বাচ্চা সুরাইয়া কে হত্যার দায়ে গ্রেফতার ‘মা’

রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
নিজের পেটের ১ বছরের বাচ্চা সুরাইয়া বাড়ীর পাশেই স্থানীয় মজিদের পুকুরের পানিতে ফেলে পলাতক মা হনুফা ওরফে (সুমি)৩০কে গ্রেফতার করেছে রাজবাড়ী থানা পুলিশ। রাজবাড়ী সদর থানার কালিচরনপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে ৩০২ পেনাল কোডে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান রাজবাড়ী সদর থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার।
রাজবাড়ী সদর উপজেলার বানিবহ ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডে বারথা বিল পাড় এলাকায় দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে শিশুটির মা পলাতক ছিলো।পরদিন ৮ই জুলাই বিকেলে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
উল্লেখ, গত ৭ই জুলাই প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী নমিতা হালদার জানান, আমি পুকুর পাড়ে গরুর জন্য খড় আনতে গিয়ে দেখি পুকুর পারে শিশুটির মা তাকে কোলে করে বসে আছে। কোলে করে চুমু খাচ্ছে আর আদর করছে। ভেবেছিলাম এমনি হয়তো বসে আছে। পরে আমি চলে আসি। এর কিছুক্ষন পর দেখি সে একা দৌড়ে চলে যাচ্ছে তাকে ডেকেছি কিন্তু সে আমাদের দিকে ফিরেও তাকায় নি। এর কিছুক্ষন পরে শিশুটির নানী ও তার আরেক নাত্নী তাঞ্জিলা সহ পুকুর থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে পরে আমরা দৌড়ে গিয়ে দেখি শিশুটিকে নিয়ে পেটের পানি বেড় করার চেষ্ঠা করছে। পরে তারা শিশুটিকে রাজবাড়ী সদর হাস্পাতালে নিয়ে যায়।
শিশুটির নানী রওশন আরা জানান, মেয়েকে দেখালাম আমার নাতনিকে নিয়ে শুয়ে আছে। আমরা বাইরেই কাজ করছিলাম। হটাত কেন এমন হলো বুঝে উঠতে পারছিনা। পুকুর থেকে নাত্নীকে হাস্পাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিতস্যক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। পরে তাকে বাড়ীতে নিয়ে আসি। মেয়েকে আর খুজে পাচ্ছিনা বলেও জানান তিনি।
সরেজমিনে জানাগেছে , রওশন আরার মেয়ে হনুফা ওরফে (সুমি)৩০ এর বিয়ে দেওয়া হয়েছিলো দুই বছর আগে রাজবাড়ী সদর থানার কম্পিউটার টাইপার বা মামলা লেখক আলমগিরের সাথে । তাদের সংসারে বনিবনা হচ্ছিলোনা। ৬মাস আগে রওশন আরার মেয়ে হনুফা @সুমি বাবার বাড়ী চলে আসে আর স্বামীর বাড়ী ফিরে যায়নি।
এ ব্যাপারে হনুফার মা রওশন আরা জানান, মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পর থেকে তাদের সংসারে অশান্তি নেমে আসে। বিয়ের পর তাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তান আসে তার নাম রাখা হয় সুরাইয়া। স্বামী আমাদের বাড়ীতে আসতো না তেমন। মাঝে মাঝে আসলে আমার মেয়ের সাথে খুব খারাপ ব্যাবহার করতো এমনকি আমি তার শাশুড়ি তার পরও সে আমাকেও গায়ে হাত তুলতো ।তাদের কন্যা সন্তান সুরাইয়ার বয়স ১বছর ১মাস । প্রায় ৫মাস যাবত আমার মেয়ের স্বামী আমাদের বাড়ীতে আসেনা। সে রাজবাড়ী সদর থানায় কম্পিটার অপারেটর এর কাজ করে। এর আগেও ২টি বিয়ে করেছিলো আলমগীর । আমরা জানতাম না। পরে জানতে পারি। মেয়ের স্বামী আলমগীর আমার মেয়ের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেদিয়েছিলো তাই আমার মেয়ের মন মেজাজ সবসময় খুব খারাপ থাকতো এবং কোন কথা সহ্য করতে পারতো না ।
শিশুটির নানা ও সুমির বাবা হাবিবুর রহমান রাজবাড়ী কোর্টে মহুরির কাজ করেন। তিনি জানান, মেয়ের স্বামীর সাথে তার বনাবনি হতোনা । তার স্বামীর আগের সংসারের প্রতি টান বেশি ছিলো ও সে পক্ষের ৩টি সন্তানও রয়েছে তাই আমাদের বাড়ীতে আসতোনা ।এ জন্য আমার মেয়ের মন খারাপ থাকতো। তাদের পারিবারিক অসামনজস্বতার কারনে সংসারে অশান্তি লেগেই থাকতো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »