“সকল ভেদাভেদ ভুলে সুন্দরকে নিবো তুলে” এ শ্লোগানকে সামনে কমলপুর পশ্চিমপাড়া যুব সংগঠনের শুভ উদ্ভোধন

শামীম আহমেদ:
কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব পৌর এলাকার কমলপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামে “সকল ভেদাভেদ ভুলে সুন্দরকে নিবো তুলে” এ শ্লোগানকে সামনে  “কমলপুর পশ্চিমপাড়া যুব সংগঠন” এর শুভ উদ্ভোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে আজ রবিরার ১৮ অক্টোবর সকালে । প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ভৈরব উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ সায়দুল্লাহ মিয়া, এতে সভাপতিত্ব করেন, উক্ত সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহিন, ভৈরব চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ লিঃ এর সভাপতি আলহাজ্ব হুমায়ুন কবির, ভৈরব উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও সাপ্তাহিক সময়ের দৃশ্যপট পত্রিকার সম্পাদক জাকির হোসেন কাজল, ভৈরব পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি এস এম বাকী বিল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আতিক আহমেদ সৌরভ, ভৈরব পৌর ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজী মোঃ মজনু মিয়া প্রমূখ। এছাড়াও স্বাগত বক্তব্য রাখেন, অত্র এলাকার বিট পুলিশিং-২ এর ইনচার্জ এস আই আব্দুর রহমান ও এস আই নাছির আহমেদ, কমলপুর পশ্চিমপাড়া যুব সংগঠনের সভাপতি হাজী মস্তোফা কামল, সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান জিসান, ভৈরব চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ লিঃ এর সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ভৈরব পৌর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী মোঃ মোশাররফ হোসেন, ভৈরব পৌর ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ নজরুল ইসলাম সরকার,৪নং ওয়ার্ড এর সাবেক কাউন্সিলর ও হাজী জহির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি লোকমান সরকার, এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিরেন, কমলপুর মোজাফ্ফর বেপারী বাড়ির সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ জিল্লুর রহমান সরকার, বিশিষ্ট্য সমাজ সেবক মোঃ হেলাল উদ্দিন মোল্লা, ৪নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক সভাপতি আফজালুর রহমান টিটু, আওয়ামীলীগ নেতা আঃ রশিদ, মোঃ সজিব আহমেদ মোল্লা প্রমূখ।
উক্ত অনুষ্ঠানটি সার্বিক পরিচালনা করেন, কমলপুর পশ্চিমপাড়া যুব সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল হক বাদল ও ক্রীড়া সম্পাদক মোঃ সুমন রহমান।
সভায় সভাপতির সমাপনি বক্তব্যে বলেন, কমলপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দাদের মাদকের সাথে বসবাস ছিলো দীর্ঘ ২০ বছর। কমলপুর পশ্চিমপাড়া এলাকা ছিলো মাদক বিক্রি এবং সেবনের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ। এক সময়ে হিরোইন এবং বর্তমানে ভারতীয় নিষিদ্ধ ফেনডিল,ইয়াবা,গাঁজা এবং চোলাইমদ বিক্রয় এবং সেবন ছিলো এ এলাকার কিছু অসাধু ব্যাক্তিদের নিত্য দিনের কর্মকান্ড। প্রতি মাসে প্রায় ৭৩ লাখ টাকার মাদক বেচা-কেনা হয় এখানে। নিউ টাউন,আমলাপাড়া,পঞ্চবটিসহ বিভিন্ন এলাকার চিহিৃত কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীরা এই এলাকাকে তাদের অসৎ ব্যবসার সবচেয়ে নিরাপদ ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হিসেবে বেঁছে নিয়েছে। এতে করে এলাকার মেধাবী শিক্ষার্থী, চাকুরীজীবী,ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ মাদকের সাথে জড়িয়ে তাদের সম্ভাবনাময় সুন্দর জীবন কে ধ্বংসের দিকে ধাবিত করছে। ছাত্ররা নেশার টাকা জোগার করতে চুরি,ছিনতাই,ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে নিজেদের জড়িয়ে সমাজের অশান্তি সৃষ্টি করছে। মাদকে যখন প্রায় অধিকাংশ পরিবারের সদস্যরা আসক্ত এবং মাদক ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত। বড় দুঃখের হলেও চির সত্য এই যে, এক সময় তারাই ভালো এবং সুন্দর সমাজের বাসিন্দা ছিলো। এলাকার প্রত্যেকটা ভালো কাজে তাদের অবদান ছিলো চোঁখে পড়ার মত। এই এলাকা যখন বিভিন্ন অপরাধে জর্জড়িত, দিনের বেলাতেও এখানে প্রকাশ্যে মাদক কেনা-বেচা হয়। উঠতি বয়সী তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীরা যখন চোঁখের সামনে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই এই এলাকার সাহসী আমরা ৪জন যুবক প্রতিজ্ঞা করি ৩০ লক্ষ শহীদ এবং ২ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে উর্জ্জিত এই দেশের মানুষকে রক্ষা করতে হবে। নিজেদের জীবনের বিনিময়ে হলেও স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রামে এলাকার সকল অপরাধমূলক কর্মকান্ড দূর করে অপরাধের সাথে সম্পৃত্ত ব্যক্তিদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে হবে।তাই আমি মস্তোফা কামাল, ছোট ভাই মাসুদুর রহমান জিসান, বন্ধু শামসুল হক বাদল ও সুমনরা কমলপুর পশ্চিম পাড়ার যুবকদের একত্রিত করে এবং ১৫ আগস্ট ২০২০ইং শুরু হয় আমাদের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম। “সকল ভেদাভেদ ভুলে সুন্দরকে নিবো তুলে” এ শ্লোগানকে সামনে রেখে মাদক বিরোধী যুদ্ধারা এলাকার সুশীল সমাজের ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে ৪জন মাদক ব্যবসায়ী ও ৩ সেবনকারীকে আটক করে ভৈরব উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে সাজা দিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে প্রেরণ করে। শুধু তাই নয় আসামীদের পরিবারের সকল ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নেয় এলাকার সাহসী যুবারা। হাজী মস্তোফা কামালকে সভাপতি ও মাসুদুর রহমান জিসান কে সাধারণ সম্পাদক করে কৃতি সন্তানেরা কমলপুর পশ্চিমপাড়া যুব সংগঠন নামে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট্য একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করে সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে আত্ম প্রকাশ করে। যার মোট সদস্য সংখ্যা ২০০ জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »