সাধারণ মানুষের অসচেতনতার কারণেই ভৈরবে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যা

বিশেষ প্রতিনিধি, আলী আহম্মদ:
ভৈরব পৌর শহরের সবচেয়ে জনবহুল আবাসিক এলাকা ভৈরবপুর দক্ষিণ পাড়া। এই এলাকার মূল সড়কটি বাণিজ্যনগরী ভৈরব বাজারে যাতায়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন এলাকাবাসী ছাড়াও চন্ডিবের,দড়ি-চন্ডিবের,কালীপুর,রামশংকরপুরসহ শিমুলকান্দি,আগানগর ও শ্রীনগর ইউনিয়নের মানুষ ভৈরব বাজারে যাতায়াত করে থাকে। প্রতি সপ্তাহে বুধবার এই সড়কে বসে কাপড় আর রকমারি পণ্যের হাট। রুমাল থেকে মাথার টুপি,পাঞ্জাবি,ছাপা কাপড়,থান কাপড়,গজ কাপড়,সুতি কাপড়,সালোয়ার-কামিজ,থ্রি-পিস,ওড়না,শার্ট-প্যান্ট,শাড়ি,লুঙ্গি,গেঞ্জি,গামছা,বেডসিট,লেপের কভার,মশারি,জুতা,ভ্যানিটি ব্যাগ,কসমেটিকস,চিনা মাটি আর মেলামাইনের তৈজসপত্র,মৌসুমি ফল সবই মেলে এই হাটে। নরসিংদীর বাবুরহাট,শেখেরচর,মাধবদী আর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ভুলতা এলাকার গাউছিয়া মার্কেট থেকে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা পিকআপ অথবা মিনিবাসে পোশাক সামগ্রী এনে পসরা সাজিয়ে বসে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে বেচাকেনার ধুম। কাপড় নিতে আসা ভৈরবসহ আশপাশ উপজেলা কুলিয়ারচর,আশুগঞ্জ,রায়পুরা,বেলাব এলাকার মহিলাদের উপচেপড়া ভিড় লেগে থাকে। বেশির ভাগ মহিলার সঙ্গে থাকে কোলের শিশু। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে প্রদত্ত লকডাউনের সময়ে কয়েক সপ্তাহ বন্ধ থাকলেও জীবন ও জীবিকা রক্ষার তাগিদে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে পুনরায় চালু করা হয় সাপ্তাহিক হাট।
একটি আবাসিক এলাকার প্রধান সড়কের ওপর বহিরাগত মানুষের সমাগম আর ক্রেতা-বিক্রেতার জটলায় আতঙ্কে রয়েছে এলাকার স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ। তারা চাইলেও মানুষের ভিড় এড়িয়ে চলতে পারছেন না। ভৈরব উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে জরিমানা আদায় ও জনসচেতনতার পাশাপাশি প্রতিদিন বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করে চলেছে। কিন্তু কাপড়ের হাটে আসা অধিকাংশ মানুষ শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। কারো হাতে থাকে না গ্লাভস। সঙ্গে মাস্ক নিয়ে ঘুরলেও অনেকে তা পরে না। আবার ক্রেতাদের অনেকের মুখে মাস্ক থাকলেও বিক্রেতার মাস্ক থাকে থুঁতনিতে। সাধারণ মানুষের অসচেতনতার কারণেই ভৈরবে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যা। দেশে করোনা সংক্রমণের চতুর্থ মাসে এসে ভৈরবে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। এই মুহূর্তে এবং সামনের দিনগুলোতে সবাই যেন স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলে,তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর তদারকির প্রয়োজন। তা না হলে আক্রান্ত ও মৃত্যুর দীর্ঘ মিছিলে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়বে এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »