স্বাস্থ্য সচেতনতার একটি ডকুমেন্টরির কাজ নিয়ে শুটিং স্পটে যাচ্ছি :নাদিয়া

বিনোদন রিপোর্ট :
নতুন করে নাটকের শুটিং শুরু করেছেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী নাদিয়া আহমেদ। বুধবার ১৭জুন ঢাকার পুবাইলের একটি অবকাশ যাপন কেন্দ্রে সাত পর্বের একটি নাটকের শুটিং করবেন তিনি। করোনার এই পরিস্থিতিতে অভিনয় জগতের অনেকেই শুটিং করা নিয়ে আপত্তি করলেও কী ভাবনা থেকে শুটিং শুরু করলেন নাদিয়া? কথা হলো তাঁর সঙ্গে।

কবে থেকে শুটিং শুরু করলেন?
মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে। স্বাস্থ্য সচেতনতার একটি ডকুমেন্টরির কাজ করেছি। এরপর বিটিভির ঈদের নাটকের শুটিং করেছি।
ঈদের নাটকের শুটিং করেছেন কোথায়?
বাংলাদেশ টেলিভিশনের নিজস্ব স্টুডিওতে। নাটকের নাম ‘নিরুদ্দেশে যাবার আগে’। পান্থ শাহরিয়ারের লেখা এই নাটকের শুটিং রোজার ঈদে করার কথা ছিল। পরিস্থিতি খারাপ ছিল বিধায় তখন আর কাজ করা হয়নি।

নাটকের আপনার সহশিল্পী কে?
শাহেদ শরীফ খান। তিনি আমার স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

স্বামী-স্ত্রীর চরিত্রে সাধারণত ঘনিষ্ঠ দৃশ্য থাকে। সেসব দৃশ্য…?
সে রকম ঘনিষ্ঠ কোনো দৃশ্যে ছিল না। হাত ধরাধরির যে দৃশ্য ছিল সেটা শুরু করার আগে ও পরে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করেছি।

শুটিংয়ের আগে সহশিল্পীরা কি নিজেদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা করে নিচ্ছেন?
করছি। আমি তো এমনও করেছি, আমার সহশিল্পী শেষ দুই সপ্তাহ কী অবস্থায় ছিলেন, সেটা জেনে নিচ্ছি। আমার অবস্থাও জানাচ্ছি। কারণ আমি চাই না, আমার কারণে অন্য দশজন আক্রান্ত হোক। একইভাবে আমাদের অঙ্গনের সবাইকে বলা আছে, কারও শরীর যদি বিন্দুমাত্র খারাপ লাগে, তাহলে যেন সঙ্গে সঙ্গে জানায়। করোনার উপসর্গ অনেকের আবার বোঝাও যায় না। তাই আমি নিজে থেকে শরীরের ইমিউন সিস্টেম বাড়ানোর জন্য যা করণীয়, করছি। এরপরও যদি কিছু হয় তাহলে কী করার আছে?

বর্তমান পরিস্থিতির কথা ভেবে গল্পে পরিবর্তন আনা হয়েছে?
গল্পে যতটা সম্ভব রোমান্টিক দৃশ্য অ্যাভয়েড করা হচ্ছে। থাকলেও শুরু করার আগে ও পরে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা হচ্ছে। স্প্রে করা হচ্ছে। আউটডোর দৃশ্য রাখা হচ্ছে না। অনেক বেশি কাজও যে হচ্ছে, তা কিন্তু না। যা হচ্ছে, একদম নিরিবিলি পরিবেশে হচ্ছে, যেখানে লোকসমাগম না হয়।

তাহলে তো শুটিং করাটাও এখন বেশ কঠিন?
সত্যিই তাই। বাড়তি অনেক কাজ করতে হয়, যা আগে কখনো করা হয়নি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে সবচেয়ে সাবধান থাকতে হচ্ছে। শুটিং স্পটে আগে যে সবাই মিলে আড্ডা দিতাম, সেটা আর হচ্ছে না। নির্দিষ্ট দূরত্বে সবাইকে বসতে হচ্ছে। সারাক্ষণ সচেতন থাকতে হচ্ছে। যে জায়গায় শুটিং করছি, প্রত্যেকটা জায়গা তখনই পরিষ্কার করা হচ্ছে।
সাধারণ ছুটির পর শুটিং শুরু করা নিয়ে পরিচালক-অভিনয়শিল্পীদের অনেকে অনেক ধরনের মত দিচ্ছেন। কেউ এখনো শুটিংয়ে অনাগ্রহী। আপনি কী বিবেচনায় কাজ শুরু করলেন?
যেসব নাটকে শিল্পীর সংখ্যা কম, বেশি চরিত্র থাকবে না। এ ছাড়াও কোন জায়গায় শুটিং হচ্ছে সেটাও মাথায় রাখছি। এর বাইরেও লকডাউনে যেসব পরিচালক সচেতন ছিলেন, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কনসার্ন ছিলেন, এসব ভেবে আমি শিডিউল দিচ্ছি।

লকডাউনের আগের শুটিং আর এখনকার শুটিংয়ে অভিজ্ঞতা কেমন?
এ রকম পরিস্থিতিতে কখনো শুটিং করতে হবে ভাবিনি। বিটিভিতে যেদিন গেলাম, শুরুতেই তাপমাত্রা মাপা হলো। হাতে স্যানিটাইজার, সারা গায়ে স্প্রে দিচ্ছে। জুতাও জীবাণুমুক্ত করে ঢুকতে হয়েছে। গ্লাভস ও মাস্ক পরা তো বাধ্যতামূলক। শুধু শুটিংয়ের সময় খুলে রাখছি। প্রতি ১৫ মিনিট পর পর হাত স্যানিটাইজ করছি। শুটিংস্পটে নানা ধরনের ভেষজ চা পান করছি। ফল আনার পর কুসুম গরম পানিতে অনেকক্ষণ ভিজিয়ে রেখে তারপর পরিবেশন করা হচ্ছে। আমি তো বাসা থেকে প্লেট-গ্লাস নিয়ে যাচ্ছি। কাজ শেষে আমি যা নিয়ে গেছি, সেগুলো জীবাণুমুক্ত করে তবেই ঘরে ফিরছি। শুটিংয়ে দুদিনের কাপড় দরকার হলে একবারে নিয়ে যাচ্ছি, প্রথম দিন আমি বাসায় ফিরলেও কাপড় আনি না, শেষদিন আগে ধুয়ে নিই। আর বাইরে বের হলেই তো গোসল সেরে ঘরে ঢুকি।

রূপসজ্জার বিষয়ও তো …
আমি বাসা থেকেই মেকআপ নিয়ে গেছি। দুই মাসে কোনো বাইরের মানুষ সেখানে যায়নি, দু-একজন স্টাফ ছাড়া। কেউ একই রুম শেয়ার করছি না। সবাই দূরত্ব বজায় রেখে চলছি।

শুটিং করতে কি বাধ্য হচ্ছেন, এ রকম কোনো ব্যাপার আছে?
প্রয়োজন সবারই আছে। প্রয়োজন নেই আমরা কেউই বলতে পারব না। আমরা যাঁরা অনেক বেশি কর্মব্যস্ত সময় কাটাই, এভাবে দিনের পর দিন কর্মহীন হয়ে বাসায় বসে থাকাটা কষ্টকর। শুরুর দিকে মানসিক প্রস্তুতি ছিল। আড়াই মাস কোনো কাজ করিনি। বাসায় বসে যে কাজ করেছি, সেসবে কোনো অর্থ খুঁজে পাইনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »