১৭ বছর আগে শোয়েবের সেই ‘ভয়ংকর মূর্তি’র বর্ণনা

খেলার খবর ডেক্স:
শোয়েব আখতারের সেই আচরণটা কিছুতেই ভুলতে পারেন না স্টিভ হার্মিসন। ২০০৩ সালের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে অতিথি ক্রিকেটার শোয়েব প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানের শরীর লক্ষ্য করে একের পর এক বল ছুড়ে যাচ্ছিলেন। ব্যাপারটা মনে করে আজও আঁতকে ওঠেন সাবেক এই ইংলিশ পেসার।

আজ থেকে ১৭ বছর আগে শোয়েবের সেই ‘ভয়ংকর মূর্তি’র বর্ণনা হার্মিসন দিয়েছেন এক পডকাস্টে। ২০০৩ সালে পাকিস্তানের সাবেক ফাস্ট বোলার ইংলিশ কাউন্টি খেলতে গিয়েছিলেন ডারহামের হয়ে। চেস্টার লি স্ট্রিট, যে মাঠটিকে ইংল্যান্ডে ‘রিভারসাইড’ বলা হয়, সেখানে ইয়র্কশায়ারের সঙ্গে ম্যাচে শোয়েব এই কাণ্ড করেছিলেন।
ইয়র্কশায়ারের ব্যাটসম্যান স্টিভ কার্বিকে তিনি সেদিন একের পর এক বিমার মেরেছিলেন। কার্বি বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান ছিলেন না। ১১ নম্বরে ব্যাট করতে নেমেছিলেন। শোয়েবের ‘আক্রোশে’ কারণ ছিল সেটিই। কেন তিনি ১১ নম্বর হার্বিকে ফেরাতে পারছেন না, এই হতাশা থেকেই নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন।

কার্বি সে ম্যাচে ৭৫ মিনিট ব্যাটিং করে ১৭ রান করেছিলেন। বুক চিতিয়ে লড়ছিলেন শোয়েব আখতারের মতো ফাস্ট বোলারের বিপক্ষে। অনেক ভাবে চেষ্টা করেও শোয়েব যখন সফল হচ্ছিলেন না, তখন তিনি বেছে নেন ভয়ংকর পথ। শরীর লক্ষ্য করে বোলিং করে হার্বিকে মানসিকভাবে শেষ করে দিতে চাচ্ছিলেন ‘রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস’।

সে ম্যাচে শোয়েবের সতীর্থ হিসেবেই ডারহামের হয়ে খেলছিলেন হার্মিসন। সে মুহূর্তগুলোর বর্ণনা দিয়েছেন তিনি এভাবে, ‘শোয়েব সেদিন নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিল। তখন সে কিছু বোকার মতো কাজ করেছে।

আমরা সবাই চিন্তিত হয়ে পড়েছিলাম হার্বিকে কেন ফেরাতে পারছি না। ৫৮ বলে সেদিন ১৭ করেছিল সে। অনেকভাবেই চেষ্টা করে যাচ্ছিলাম। কিন্তু হার্বি বলগুলো খেলছিল খুব দৃঢ়তার সঙ্গে। কিন্তু শোয়েব সব সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।’

হার্মিসনের মতে সেই মুহূর্তগুলো ছিল ক্রিকেট মাঠে তাঁর দেখা বাজে মুহূর্তগুলোর অন্যতম, ‘শোয়েবের একটা বিমার সোজাসুজি গিয়ে লেগেছিল হার্বির হেলমেটে। আরেকটা গ্লাভসে। সেই সঙ্গে প্রতিটি বলের পরই শোয়েব মাঝ উইকেটে গিয়ে হার্বিকে গালি দিচ্ছিল। হার্বিও গালি ফিরিয়ে দিয়েছে। মোট কথা ক্রিকেটে মাঠে আমার দেখা বাজে মুহূর্তগুলোর অন্যতম ছিল সেগুলো।’

ডারহাম সতীর্থরাও সেদিন শোয়েবের এমন আচরণ মন থেকে মেনে নিতে পারেনি বলে জানিয়েছেন হার্মিসন, ‘আমি নিজে কোনোদিন এমন কৌশল গ্রহণ করিনি। আমি শোয়েবকে গিয়ে বলেছিলাম, “শোয়েব তুমি এসব কেন করছ?” উত্তরে সে বলেছিল, “আমি যে তাঁকে আউট করতে পারছি না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »